বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১২, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪১৯ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


শেকড়ের খুঁজে

[আলোচ্য রচনাটি আমার কৌতূহল নিবৃত্তির নিমিত্তে তথ্যপথে ভ্রমনের ভ্রমন কাহিনী মাত্র।]

আমি আমার শেকড়ের খুঁজে পথ চলেছি অনেক। হঠাৎ করেই মনে আসলো- আমার পূর্বপুরুষরা কি এখানেই ছিলেন যেখানে আজ আমাদের বসতি। যদি না থেকে থাকেন তবে কোথা থেকে এসে তারা আবাস গড়েছিলেন? কেন এসেছিলেন? পরিবারের ইতিহাস রক্ষা করা হয়নি কখনও। আমি আমার নিকট পূর্বপুরুষের সব কথাও জানি না। ভেবেছি দেশে গেলে বাবার কাছ থেকে শুনে নেব। বাবার কাছ থেকে উনার বাবা এবং দাদার ইতিহাস পাওয়া যাবে। বাবার দাদার নাম কুঞ্জ কিশোর শর্মা- আমার দাদার নাম জ্যোতিষ শর্মা। আমার ঠাকুর মা’র নাম ছিল উত্তরা দেবী মোহান্ত(সবাই মোহন্ত লেখেন, আবার আত্মীয়দের মাঝে এক অংশ মোহান্ত লেখেন)- উনাদের সব পূর্ব পুরুষ মোহান্ত বংশের। এদিকে আমার মা, মাতামহ, মাতামহী- উনারাও মোহান্ত বংশের। আমার মায়ের পিতামহের নাম গোবর্ধন মোহন্ত, আমার মাতামহের নাম গোপী মোহন মোহন্ত, মাতামহীর নাম শান্তিলতা মোহন্ত। দেখা যাচ্ছে আমাদের বংশে দুই বংশের স্রোত মিশে আছে। শর্মা বংশ আর মোহান্ত বংশ। মনে মনেই সাধ জেগেছিল- আমি যদি আমার পূর্বপুরুষের ইতিহাস জানতে পারতাম। আর মনের সেই ভাবনার সাথে সাথে সময়ের ব্যবধানে ব্যবধানে অনেক তথ্য পেতে থাকলাম। যদিও সুস্পষ্টভাবে সকলের ইতিহাস বলতে পারব না- তবে বংশের সূত্ররেখা পেয়ে গেছি বলে মনে হয়।

শর্মা সনাতন ব্রাহ্মণদের উপাধি। মনুস্মৃতি অনুসারে সকল ব্রাহ্মণদের শর্ম্মণ উপাধি থাকবে আর ক্ষত্রিয়দের থাকবে বর্মন বা বর্মা। যদিও শর্মা শব্দটি আসলে অনেকটা পরিবর্তনে মাধ্যমে এসেছে। মূল শর্ম্মণ ধাতুর সাথে আ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে এসেছে শর্মা, কিছুদিন আগেও অনেকে শর্ম্মা লেখতেন। এখন বানানের পরিবর্তনে শর্মা হয়ে গেছে। এই শব্দের বিভিন্ন অর্থ* রয়েছে। ব্রাহ্মণদের মাঝেও বিভিন্ন উপাধি নাম থাকলেও ধর্মীয় যজ্ঞ বা পূজার আগে সংকল্প(নিয়ত) করতে সব ব্রাহ্মণকে নামের সাথে অবশ্যই শর্মণ শব্দটি লাগিয়ে নিতে হয় । দেখা যায় উত্তর ভারতে এই উপাধি যুক্তের সংখ্যা বেশি। তাই আমার ভাবনায় এলো- তাহলে কি উত্তর ভারতের কোন অঞ্চল থেকে আমার পূর্বপুরুষ বাংলাদেশে এসেছেন। তাছাড়া সম্রাট আকবর অনেকে মৈথিলি ব্রাহ্মণকে দরবারে নিয়ে যান, সেখানে তারা স্থায়ী বসবাস করতেন, সম্রাট জাহাঙ্গীর, সম্রাট শাহজাহান পর্যন্ত এভাবেই চলছিল। আওরঙ্গজেব এসে এঁদেরকে বিতাড়িত করেন, থাকতে হলে ধর্ম বদলাতে হবে, না হলে মস্তক ছেদন হবে, তাই মৈথিলি ব্রাহ্মণদের যাঁরা জীবিত ছিলেন তাঁরা পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন, আগ্রা, আলীগড়, মথুরা এবং দূরবর্তী অন্যান্য গ্রামে। স্থানীয়রা তাদের ব্রজস্থ মৈথিলী ব্রাহ্মণ নামে ডাকতেন, তাঁদের অনেকে আওরঙ্গজেবের ভয়ে নামের শেষ অংশ স্থানীয় ব্রাহ্মণদের মত শর্মা করে নেন।তবে এখানে সমস্যা রয়ে গেল গোত্র নিয়ে। বিভিন্ন মুনি-ঋষিদের নামে গোত্রের নামকরণ করা হয়ে থাকে এবং তাঁরাই হলেন সেই গোত্রের গোত্রপতি (Forefather)। উত্তর ভারতের বা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের শর্মা নামধারীদের গোত্রে পার্থক্য দেখে ওদিকে এগোতে পারলাম না। আমাদের গোত্র হচ্ছে ‘শিব গোত্র’। শিব একজন দেবতার নাম- দেবতা কিভাবে মানুষের গোত্রপতি হবেন এ নিয়ে একটু দ্বিধায় ছিলাম। ঈশ্বর যেহেতু সৃষ্টি করেছেন সেহেতু তিনি সকল গোত্রের স্রষ্টা- তাঁর কোন নাম দিয়ে গোত্রের নাম করা যায়- সে তো বৃহদার্থের কথা। পরে অবশ্য উত্তর পেয়েছিলাম- দেবতা নয়- অবতার থেকেই এসেছে। সে কথা পরে বলছি।

শেকড়ের খুঁজে আরেকটি বংশের বর্ণনা না দিলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কারণ এই বংশের সূত্র ধরেই আমি এগিয়েছি। সেই বংশের নাম হলো “নাথ” বংশ। এই বংশকে যোগী বংশ বলা হয়। এরা কঠোর যোগ সাধনায় ইন্দ্রিয়জাত চেতনার উর্দ্ধে গিয়ে তন্ত্র সাধনের মাধ্যমে মোক্ষ লাভের সাধনা করে যান। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলছি না। সে অনেক কথা। এরা আবার অর্থোডক্স নয়- মানে বেদের সবকিছু পালন করেন না। বেদও আছে আবার নিজস্ব যোগ পথও আছে। নাথগণ শৈব ধর্মাবলম্বী (সনাতন ধর্ম কিন্তু একটি শাখা)। শিবের উপাসকদের শৈব বলা হয়। এদেরও গোত্র শিব গোত্র। বর্তমানে এরা বৈদিক বর্ণপ্রথায় কোন বর্ণের এ ব্যাপারে আমি কারও কাছ থেকে উত্তর পাইনি। তবে শাস্ত্রমতে এঁরা রুদ্রজ ব্রাহ্মণ। দেবতা শিবের রক্ত থেকে জাত বিন্দুনাথ এবং কশ্যপমুনির মেয়ের গর্ভে এদের জন্ম।শিবের আরেক নাম রুদ্র, অন্যদিকে কশ্যপমুনি একজন ব্রাহ্মণ, উনার মেয়ের সন্তান হিসেবে এরাও ব্রাহ্মণ; রুদ্র থেকে জাত বলে রুদ্রজ ব্রাহ্মণ। আমাদের দেশের নাথ সম্প্রদায়ের লোকও ব্রাহ্মণদের মত পৈতা গ্রহন করেন- উপনয়ন সংস্কারের মাধ্যমে আমি কাউকে গ্রহন করতে দেখিনি, বা বর্তমান সমাজে তেমন নিয়ম আছে বলেও শুনিনি, বিয়ের সময় পুরোহিতের মাধ্যমে এদের পৈতা গ্রহন করতে দেখেছি। তবে বৈদিক ব্রাহ্মণদের মত এদের পূজার্চনা ও যজ্ঞ করার অনুমতি নেই সমাজে, আদিতে ছিল বলেও উল্লেখ পাইনি। তারা শুধু যোগরত থাকেন। রুদ্রজ ব্রাহ্মণ হলেও বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় এদেরকে অনেকটা শুদ্রতুল্য গণ্য করা হয়; আর এটা রাজদ্রোহের কারণে- বল্লাল সেন যার জন্য দায়ী। যেহেতু আমরা এবং নাথ সম্প্রদায় একই গোত্রের- তাই সম্পর্ক রয়ে গেছে। একটু পরেই বের হবে।

আমার মেসো- শিব চরণ শর্মার কাছে একদিন একটি বইয়ের নাম শুনি। উনার বাবা- বিহারী লাল শর্মা ছিলেন জ্ঞান অর্জনের জন্য এক পাগলপ্রাণ মানুষ। আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও জ্ঞান অর্জনের অদম্য ইচ্ছা দমন হয়নি তাঁর। শুনলে অবাক হবেন- তিনি জমি বিক্রি করে সে টাকা দিয়ে বিভিন্ন পুস্তক কিনতেন। উনি গত হয়েছেন বেশ কয়েক বছর হলো। কিন্তু উনাদের বাড়িতে প্রাচীন গ্রন্থের সমাহার। আমার বাড়িতেও দাদুর অনেক গ্রন্থ ছিল, কিন্তু বিধি বাম, উঁইপোকা সব সাবাড় করেছে। মেসো বইয়ের নাম বলেছিলেন- “বল্লাল চরিত” এবং “রুদ্রজ ব্রাহ্মণ ইতিহাস"।বইগুলো পড়ার সুযোগ হয়নি, আমি শুধু উনার মুখ থেকে শুনেছি। তবে উনি যে ইতিহাস বলেছিলেন তা আমার অনেক কাজে লেগেছে। অনেকে হয়তো শুনে থাকবেন বল্লাল সেনের প্রচলিত একটি বর্ণপ্রথা বা কৌলিন্য প্রথা রয়েছে। যাকে বল্লালী বলা হয়। বাংলা অভিধানে এই শব্দ পাবেন। মানে বঙ্গ অঞ্চলের বর্ণপ্রথা সেই বৈদিক প্রথা নয়(এই কারণেই হয়তো যতসব অঘটন এখানেই ঘটেছে বেশি)। কাহিনীটি বলছি যেমন শুনেছিলাম। তবে অপূর্ণতা রয়ে যাচ্ছে- আমি নিজে বইটি পড়িনি, তা না হলে আরও বিস্তারিত বলতে পারতাম বা রেফারেন্স দিতে পারতাম। শুধু একটু ধারা পেয়েছি তাই বিস্তারিত রেফারেন্স ছাড়াই শেয়ার করছি।পরবর্তিতে মূল বইয়ে মিলিয়ে নেব।

মনিপুরী(রাজার নাম বলতে পারলাম না) এক রাজার সাথে বল্লাল সেনের বিরোধ বাধে। যা শুনলাম তা হচ্ছে- বল্লাস সেন তার কোন এক দিদিমার সাথে সহবাস করে এবং তার গর্ভে সন্তান এসে যায়। মনিপুরী রাজাও হিন্দু। দিদিমার গর্ভে সন্তান আসা অনাচার, এই নিয়েই বিরোধ বাধে। আসন্ন সেই যুদ্ধে বল্লাল সেন নিজের ক্ষতির দিক বিবেচনা করে চিন্তিত হয়ে পড়েন। তখন পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে হিমালয়ের আশেপাশের কোন অঞ্চল থেকে নাথ সম্প্রদায়ের এক নেতার কাছে সাহায্য চান- উনার নাম যতদূর মনে আছে “তেজই নাথ”। বল্লাল সেন তাদের সাহায্য কামনা করলেন- তো নাথ সম্প্রদায় রাজি হলেন। তখন তাঁরা তাদের গুরু সম্প্রদায়কেও সাথে নিতে চাইলেন। আট পরিবার গোসাই(ব্রাহ্মণ, এরাও শিব গোত্রের), ষোল পরিবার শর্মা(ব্রাহ্মণ) ও চব্বিশ পরিবার নাথ এসেছিলেন তখন বল্লান সেনের আমন্ত্রণে।বল্লাল সেন সাদরে অভ্যর্থনা জানালেন। এভাবে নাথ এবং শর্মাদের আগমন বঙ্গদেশে। আগমনের পরে যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণ করা হলো। নাথ সম্প্রদায়ের দলপতি কৌশল বের করলেন যে- যুদ্ধে যতজন সৈন্যকে পাঠানো হবে তাদেরকে ব্রাহ্মণের সাজ পরানো হবে। এভাবে সৈন্যদেরকে পৈতা পরিয়ে ব্রাহ্মণ সাজানো হলো। এবার বললেন যতজন ব্রাহ্মণের বেশধারী সৈন্য যাবে তাদের সাথে ততজন নারীও যাবে। একজন ব্রাহ্মণবেশী সৈন্যের সাথে একজন নারী থাকবে আর তাঁদের সাথে একটি করে ষাঁড় থাকবে। বল্লাল সেন ব্যবস্থা করলেন। যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হলো। ওদিকে মনিপুরী রাজাও সনাতন ধর্মাবলম্বী। তিনি বল্লাল সেনের অদ্ভূত সৈন্য সাজ দেখে আশ্চর্য। যুদ্ধ করলে উনাকে একজন ব্রাহ্মণ বধ করতে হবে- উনি তো আর জানেন না যে সৈন্যরাই ব্রাহ্মণের বেশ ধরেছে। শাস্ত্রে আছে ব্রহ্ম হত্যা মহাপাপ। যুদ্ধে লাগলে নারীর উপরও আঘাত আসবে- নারী হত্যাও মহাপাপ। ষাঁড় যেহেতু সাথে আছে- তাহলে আক্রমণে ষাঁড়ও মরবে। শাস্ত্রে গো-হত্যাও মহাপাপ। এত এত ব্রাহ্মণ, নারী আর গরু হত্যা করে এত এত মহাপাপের ভাগীদার হতে চাইলেন না রাজা। বিনা যুদ্ধেই পরাজয় মেনে নিলেন শাস্ত্র মানতে গিয়ে। ওদিকে বল্লাল সেন তো খুবই আনন্দিত। নাথ সম্প্রদায়কে বিশেষ সম্মান দেওয়া হলো। তাঁদেরকে এদেশেই বসবাসের ব্যবস্থা করা হলো। কিন্তু বিধি বাম। এই ঘটনা বর্ণনার আগে আরেকটি ঘটনার কথা বলে নেই। এই যে এত এত সৈন্যকে ব্রাহ্মণ সাজানো হলো তারা কেউই ব্রাহ্মণ ছিল না। এখন যেহেতু তাদেরকে পৈতা পরানো হয়ে গেছে- তা খোলে নেওয়া পৈতার অপমান। তাই বল্লাল সেন ব্রাহ্মণ সাজধারী সৈন্যদেরকে ব্রাহ্মণ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন আর তাদেরকে নিজ নিজ বংশের ব্রাহ্মণ হিসেবে নিযুক্ত করলেন। পরবর্তিতে এরা শাস্ত্র অধ্যয়ন, পূজাচার শুরু করলেন। এভাবেই বল্লাল সেন নতুন কৌলিন্য প্রথার সূচনা করেন যা বল্লালী নামে পরিচিত- বাংলা অভিধানে বল্লালী শব্দের অর্থেও তা পাবেন।

ওদিক বিধি বাম হলো নাথ সম্প্রদায়ের জন্য। আনন্দিত হয়ে বল্লাল সেন রাজ প্রাসাদে সমাদরে সকলকে রাখলেন। রাজা ভাবলেন এদেরকে সম্মানের সাথে কিভাবে ভরণ-পোষণ করানো যায়। রান্নার কথা ভাবতে গিয়ে রাজা ভাবলেন যাকে তাকে তো আর এই কাজ দেওয়া যায় না। যেহেতু গুরু সম্প্রদায় সাথে আছেন সেহেতু গুরুর রান্না করা প্রসাদ খেলেই এদের যোগ্য সম্মান হবে। এই বিবেচনায় বল্লাল সেন বললেন যে- নাথ সম্প্রদায়ের গুরুদেবই রান্না করবেন। এদিকে নেতা কথাটিকে নিয়ে ভুল বুঝলেন। তিনি ভাবলেন- আমরা উপকার করলাম আর আমাদেরকে অপমান সাথে সাথে আমাদের গুরুকেও রাঁধুনি বানানো হচ্ছে। তিনি প্রতিবাদ করলেন। আর তা রাজদ্রোহ হয়ে গেল বল্লাল সেনের কাছে। ঘটনার ঘনঘটায় নাথ সম্প্রদায়কে রাজপ্রাসাদ ছাড়তে হলো- এমনকি নিজদেরকে অজ্ঞাতবাসে যেতে হলো। রাজার আদেশ ছিল এমন যে- “ধর নাথ ছিড় পৈতা”। মানে এদের অপমান করা। তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেন। পরিচয় গোপন রাখলেন। বলতে গেলে- এক বিষম সমস্যায় উপনিত হলেন সবাই। এখান থেকে ফিরে যাবারও উপায় রইলো না। এভাবেই একসময় মিশে গেলেন সবাই এদেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সাথে। এখানে আরেকটি কথা বলতে হয়- যেহেতু রাজার আদেশ ছিল এদেরকে অপমান করা কারণ বল্লাল সেনের আদেশ তাঁরা মানেননি- অনেক প্রজাই তা করেছিলেন। সেই কারণে এখনও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোক নাথ সম্প্রদায়কে নীচ চোখে দেখেন। এমনকি নাথ সম্প্রদায়কে অনেকটা শুদ্রের(কৃষিকাজ করেন বলে বৈশ্যও বলা যায়) মত দেখা হয়।নাথের গুরু-ব্রাহ্মণ হিসেবে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে; একদার রুদ্রজ ব্রাহ্মণ হলেও নিজেদের গুরু-ব্রাহ্মণদের কাছেও এরা শুদ্রের মত। সময়ের পরিক্রমায় না আছে এদের যোগী হিসেবে আচরিত প্রথা; যোগী বংশ হিসেবে করণীয়-পালনীয় সব বাদ দিয়ে এরা নিজেরাও কায়িক শ্রম, কৃষিকাজ, ব্যবসা ইত্যাদিতে জড়িত হয়ে পড়েন। যেমন গুরু-ব্রাহ্মণদের ঘরে এরা ভাত খেলে থালাটা নিজে ধুয়ে এনে দিতে হয়। কোন ব্রাহ্মণ লাঙ্গল ধরে গরু দিয়ে হালচাষ করে না, এটা নাকি নিষিদ্ধ- এমনটাই শুনে এসেছি। কিছু মজাদার তথ্য শুনা যায়; কাজের লোক না পেয়ে অনেক ব্রাহ্মণ ক্রোধ বশত হালচাষ করে ব্রাহ্মণ সমাজচ্যুত হয়ে নাথ উপাধি পেয়ে যান। তাই নাথ সমাজকে অনেকে বিকৃত ব্রাহ্মণও বলে। এরকম অনেক পরিবার আমি দেখেছি যাদের আদি পুরুষ ব্রাহ্মণ ছিল। হাজার বছরের অধিক পেরিয়ে গেছে, তাই কে আদিতে আসা সেই যোগী পুরুষ নাথগণের বংশধর, কে বিকৃত বা রূপান্তরিত, তা জানার উপায় নেই, প্রয়োজনও নেই। বল্লালী বিকৃত বর্ণপ্রথার যাঁতাকলে পিষ্ঠ সমাজ ধীরে ধীরে জন্ম নির্ধারিত বর্ণপ্রথার চেয়ে কর্মগুণের দিকেই ফিরে যাচ্ছে। এটা আশার কথা। আর বর্তমানে নাথ সমাজও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজের অনেক উঁচু উঁচু পদে অধিষ্ঠিত।

বল্লাল সেন যুদ্ধের খাতিরে যেসব সৈণ্যকে ব্রাহ্মণ বানিয়েছিলেন, সেইসব নব ব্রাহ্মণ উপাধি পাওয়া ব্রাহ্মণরূপী সৈন্যরাও নাথ শম্প্রদায়ের গুরু সম্প্রদায় মানে শর্মা সম্প্রদায়কেও বৈষম্যের সাথে দেখা শুরু করলেন। বাইরে থেকে বুঝার উপায় নেই। তবে ভেতরে ভেতরে অহম প্রদর্শনের স্থান রয়ে গেছে। ব্রাহ্মণদের মাঝেও ভেদাভেদ রয়ে গেছে। যেমন কিছু ব্রাহ্মণ পূজা বা যজ্ঞের সময় নিজের নামের সাথে অবশ্য করণীয় হিসেবে শর্মণ লাগালেও নিজেদের শর্মণ-ব্রাহ্মণদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবেন মনে মনে, কখনও কাজে-অকাজে। আবার আমাদের শর্মণদের মাঝে অনেকে অন্য ব্রাহ্মণদের তেমন একটা সম্মান প্রদর্শন করেন না ইতিহাসের কারণে; কারণ বল্লাল সেন তার অব্রাহ্মণ সৈনিকদের ব্রাহ্মণ বানিয়েছিলেন, আর বঙ্গদেশের ব্রাহ্মণরা অনেকে সেই সৈন্যদের বংশধর।এদের দুই দলকেই আমার চরম বোকা মনে হয়, আর এরা নিজেরাও জানেন না যে অহংকার বা শ্রেষ্ঠত্ব মনে পোষণ করা ব্রাহ্মণের লক্ষণ নয়, ব্রাহ্মণের অবস্থান তাতে স্খলিত হয়। সেই যে শুরু হয়েছিল- এখনও অনেক জায়গায় ভেতরে ভেতরে তা রয়ে গেছে। উপকারের বিষম পরিণতি! আসলে বলতে গেলে বঙ্গদেশে বর্ণপ্রথার নামে অনাচারের জন্য বল্লাল সেনই মূল দায়ী। তাই বঙ্গদেশের সব ব্রাহ্মণের আদি কিন্তু ব্রাহ্মণ ছিল না, যারা বল্লালী প্রথায় ব্রাহ্মণ হয়েছে গুণ ও কর্মের বিচারে তারা কতটুকু ব্রাহ্মণ ছিল তাও প্রশ্নযুক্ত। হঠাত করে কেউ উঁচু পদে গেলে যেমন ধরা সরাজ্ঞান করে না, এদেরও হয়েছিল তাই। তাই বাংলাদেশে বর্ণপ্রথার নামে অনাচার বেশিই হয়েছে উপমহাদেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায়। আর তা হয়েছে বর্ণসংকরের কারণে। ইংরেজ আমলের হিন্দু সমাজের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে, কী ছিল এই বঙ্গদেশ! ব্রাহ্মণ নাম ধারী জমিদারদের কাহিনী ঘাটলেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এরাই ৭০% কনভার্সনের জন্য দায়ী; এরাই সতীদাহ প্রথার মত প্রথাকে সার্বজনীন করার জন্য দায়ী। সাইকোলজিতে একটা ব্যাপার আছে; যে যা নয় সে হঠাৎ করে তা পেয়ে গেলে নিজের আত্মপরিচয় নিয়ে দ্বন্ধে থাকে, তখন নিজেকে জাহির করার জন্য মূল পরিচয়ধারীর চেয়েও বেশি নিজেকে তুলে ধরে। এই যেমন বাংলাদেশের মুসলমান সমাজ- নিজেদের অধিকতর ঈমানযুক্ত প্রমান করতে এরা এমন কিছু কাজ করেন যা আদৌ শরিয়ত মোতাবেক না এবং স্বয়ং আরবের লোকেরাও তা অনুসরণ করে না; বেগম রোকেয়ার রচনায় তখনকার সমাজের চিত্র পড়লেই বুঝা যাবে। এই কারণে আমি মনে করি, আমাদের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের আদি যে ইতিহাস, আর সেই ইতিহাসের অনাচার-অবিচারের জন্য বল্লাল সেন দায়ী। তাছাড়া বল্লাল সেন একজন ব্রাহ্মণ ছিলেন, একজন ব্রাহ্মণ কিভাবে ক্ষত্রিয় হতে পারে! হ্যাঁ ক্ষত্রিয় হতে পারে, তবে তখন সে নিজেকে ব্রাহ্মণ পরিচয় দিতে পারে না। ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়ের আচার-আচরণের মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। এই কথাকে বুঝাতে একটি গল্প বলার প্রয়োজন মনে করছি।

মহাভারতের গল্প। পরশুরাম ব্রাহ্মণ পুত্র হয়েও অস্ত্রশিক্ষা গ্রহন করলেন এবং ক্ষত্রিয় নিধনে লাগলেন; কারণ তখন ক্ষত্রিয়রা অনাচারী হয়ে ব্রাহ্মণদেরকে নিজেদের প্রতিদ্বন্ধী ভেবে আবহমান গুরকুল শিক্ষার সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করেছিল, বৈদিক সিস্টেম বদলে দিতে চেয়েছিল নিজেদের প্রতিপত্তি ধরে রাখতে। পরশুরাম একুশবার ক্ষত্রিয় নিধন করেন। শেষ দিকে তিনি যুদ্ধ ছেড়ে সবকিছু দান করে দেন। ঘটনার পরিক্রমায় পাণ্ডব এবং কৌরবদের অস্ত্রগুরু দ্রোণ এসে তাঁর কাছে অস্ত্র শিক্ষা গ্রহন করেন। ওদিকে পরিচয় অজ্ঞাত থাকায় পাণ্ডবদের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা কর্ণ সুতপুত্র হিসেবে শুদ্র আখ্যায়িত হয়ে দ্রোণের কাছ থেকে অস্ত্রশিক্ষা পেলেন না।পরশুরাম তখন শুধু ব্রাহ্মণ সন্তানদেরকে অস্ত্রশিক্ষা দিচ্ছিলেন। কর্ণ নিজেকে ব্রাহ্মণ পরিচয় দিয়ে অস্ত্রশিক্ষা গ্রহন করলেন। একদিন গুরু পরশুরাম শিষ্য কর্ণের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছেন। এমন সময় রক্তচোষক এক কীট এসে কর্ণের পায়ে কামড় দিল। অসহ্য ব্যথা, রক্ত চোষে নিচ্ছে। গুরুর ঘুম ভেঙ্গে যাবে, গুরু কষ্ট পাবেন বলে কর্ণ সহ্য করে যেতে থাকলেন। কীটের দংশনে রক্ত বের হতে থাকল। রক্ত গড়াতে গড়াতে গুরুর গায়েও লাগলো। হঠাত শীতল স্পর্শে গুরু পরশুরাম ঘুম থেকে উঠে গেলেন। দেখতে পেলেন রক্তচোষক কীট কর্ণের পা দংশন করছে। গুরু উঠে যেতেই প্রবল আক্রোশে কর্ণ কীটকে ফেলে এতক্ষণ জমানো ক্রোধের বশে মেরে ফেললেন। তখন গুরু পরশুরাম সন্দিহান হলেন, যে কর্ণ ব্রাহ্মণ নয়। পরশুরাম বললেন যে, কোন ব্রাহ্মণ এতক্ষণ এত অসহ্য যন্ত্রনা সহ্য করতে পারত না। ক্ষত্রিয়ই শুধু এত আঘাত সহ্য করতে পারে। আর কোন ব্রাহ্মণ এমন নির্দয়ী হয়ে কীটকে মেরে ফেলত না, ক্ষত্রিয়ই শুধু তা পারে।

উপরের গল্প থেকে সেন বংশের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তাই বলছিলাম, রাজ কার্য ক্ষত্রিয়ের কাজ। ক্ষত্রিয় হতে হলে যে সাহস, যে তেজ, যে ধৈর্য শক্তি থাকতে হয় তা একজন ব্রাহ্মণের থাকবে না। আর লক্ষণ সেনের পলায়নও তাই ছিল অক্ষত্রীয় সুলভ, মূল কথা উনি তো ক্ষত্রিয় ছিলেন না। রাজপুত ক্ষত্রিয়গণ যেখানে যুদ্ধ করতে করতে জীবন দিয়েছেন সেখানে লক্ষণ সেন বিনা যুদ্ধে পালিয়ে যান। জীব বিজ্ঞানের এই যুগে জীনের প্রভাব তো আমরা জানিই- তারই প্রভাব হবে। যাই হোক; আমার মূল আলোচনা সেন বংশের আলোচনা নয়। তবে এই বংশকে আমি পছন্দ করি না। সকল অধঃপতনের এক বড় কারণ এরা।

এবার মূল আলোচনার দিকে আবার যাই। এখন এদিক থেকে আরও প্রাচীন যুগের দিকে যেতে হবে। এখানেও শিষ্য সম্প্রদায়(নাথ সম্প্রদায়) সাহায্যের পথ দেখিয়ে দিলেন। একদিন তথ্য পেলাম নাথ সম্প্রদায়ের আদিগুরু হচ্ছেন দত্তাত্রেয়। দত্তাত্রেয় আবার ঋষি অত্রির(ব্রহ্মার মানস পুত্র এবং সপ্তর্ষিদের একজন। সপ্তর্ষি মণ্ডলের এক তারা(মেগরেজ বা ডেল্টা) উনার নামে।) পুত্র। দত্তাত্রেয়কে অবতারও বলা হয়। এই জায়গায়ও এক কাহিনী রয়ে গেছে। রামায়নে এই ঘটনার কথা উল্লেখ আছে। ঋষি অত্রির স্ত্রী অনুসুয়া নিজের জ্ঞান আর সতীত্বের জন্য জগদবিখ্যাত ছিলেন। তাঁর পরীক্ষা নিতে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর (ঈশ্বরের সৃষ্টি, পালন ও সংহার শক্তি) এলেন। তাঁরা ঋষির সাজ ধরে অত্রি মুনির গৃহে এলেন। তখন অত্রি মুনি আশ্রমে ছিলেন না। অতিথি বাড়িতে এসেছেন- অতিথির সেবা করতে হয়। এদিকে অতিথিরা আবদার করলেন- অনুসুয়াকে বস্ত্রহীন হয়ে খাবার পরিবেশন করতে হবে। তিনি পড়লেন বিপদে। একদিকে তাঁর সতীত্ব আর অন্যদিকে অতিথির সেবা। অতিথিরা কোন অবস্থাতেই মানতে রাজি নয়। তখন অনুসুয়া নিরুপায় হয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন- আমি যদি মন-প্রাণ দিয়ে আমার স্বামীর অনুগত থেকে থাকি, আমি যদি কর্ম ও বচনে সৎ থেকে থাকি তাহলে- এই তিন অতিথি শিশু হয়ে যাবেন- আর তিনি পুত্রজ্ঞানে অতিথিদের খাবার পরিবেশন করবেন। সতীত্বের বলের কাছে হলোও তাই। এখন শিশুর সামনে নারী তো মাতা- শিশুর সামনে বস্ত্রহীন আর বস্ত্রযুক্ত একই কথা। অনুসুয়ার উভয় সংকট এভাবেই রক্ষা হয়েছিল। সতীত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বর(আশীর্বাদ) পেয়েছিলেন যে এই ত্রিদেব সন্তান হিসেবে অনুসুয়ার পুত্র হিসেবে জন্মগ্রহন করবেন। এই পুত্রই হলেন দত্তাত্রেয়। (শৈবদের কাছে- দত্তাত্রেয় শিবের(মহেশ্বর) অবতার। আবার বৈষ্ণবদের কাছে বিষ্ণুর অবতার।) দত্তাত্রেয় যেহেতু নাথ সম্প্রদায়ের আদিগুরু; এদিকে শিব গোত্রের অধীন শর্মা সম্প্রদায়ও নাথ সম্প্রদায়ের পুরোহিত এবং গুরু হিসেবে যাজনিক কাজ করেন; সেহেতু কোন না কোন ভাবে দত্তাত্রেয় বা ঋষি অত্রির সাথে আমাদের বংশের সংযোগ রয়ে গেছে। যেহেতু আমাদের গোত্র শিব গোত্র তাই দত্তাত্রেয়ই হবেন আমাদের গোত্রপতি আর এই কারণেই এই গোত্রের নাম শিবগোত্র যে তিনি ছিলেন শিবের অবতার। বৈষ্ণবগণ দত্তাত্রেয়কে বিষ্ণুর অবতার মনে করেন; যেহেতু একই জনে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শিব, এই ত্রিমূর্তির মিলিত বিভূতি রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অনগচলে দত্তাত্রেয় পূজা হয়। তিনি ত্রিনাথ নামে পরিচত। সিলেট অঞ্চলে ত্রিনাথ, তিন্নাথ, বাবাহর- নামে পরিচিত তিনি। গাভী বাচ্চা দিলে একুশ দিন বা এক মাস পর গাভীর দুধ দহন করে বাবাহরের সেবা হয় সিলেটে।

বিষ্ণুপুরানে দত্তাত্রেয়ের আরও কাহিনী আছে; মহারাজ অর্জুন দত্তাত্রেয় দেবের সাধনা করে প্রবল পরাক্রমী হয়ে যান, তার নাম হয় সহস্রার্জুন- এক হাজার শক্তিশালী হাতের শক্তি লাভ করেন। এত পরাক্রমশালী যে পরাক্রমশালী লঙ্কার রাজা রাবণকেও যুদ্ধে পরাজিত করে বন্দী করেন। সহস্রার্জুন ব্রাহ্মণদের পছন্দ করতেন না, ব্রাহ্মণদের বিদ্যাদান- উপদেষ্টা হিসেবে রাজ কার্য পরিচালনার পথ বলে দেওয়াকে রাজার উপর ব্রাহ্মণদের আধিপত্য মনে করতেন। গুরুকূল বিদ্যাকে তছনছ করে দিতে চেয়েছিলেন। এভাবেই ঋষি জমদগ্নি নিহত হন। জমদগ্নির পত্নী রেণুকা, যিনি ছিলেন একদা রাজকুমারী, অযোধ্যার রাম যে বংশে জন্মেছিলেন সে বংশেরই রাজকুমারী তিনি, তাঁর উপর সহস্রার্জুন কুদৃষ্টি দেন। স্বামী-স্ত্রীর ভুল বুঝাবুঝিতে জমদগ্নি তাঁর পুত্র পরশুরামকে আদেশ দেন রেণুকাকে হত্যা করতে। প্রতীজ্ঞার ফাঁদে পড়ে ছেলের হাতে মায়ের মৃত্যু হয়। পিতা খুশী হয়ে ছেলেকে আশীর্বাদ করে বর দিলে, পুত্র মায়ের জীবন ফিরিয়ে দিতে বলেন। এভাবেই রেণুকা পুনর্জিবিত হোন। তাই বলা হয়ে থাকে পৃথিবীতে কেউই মায়ের ঋণ শোধ করতে পারেনি পরশুরাম ছাড়া, কারণ তাঁর কারণেই তাঁর পিতা বাধ্য হয়েছিলেন পুনরায় দেবী রেণুকাকে জীবিত করতে। পরশুরাম ছিলেন আবার বিষ্ণুর অংশ অবতার। বিষ্ণুর পূর্ণ অবতার শ্রী রামের সাথেও তাঁর দেখা হয়েছিল, রাম যখন সীতার স্বয়ম্বরে গিয়ে পরীক্ষা হিসেবে শিব-ধনুক ভেঙ্গেছিলেন। মহাভারতের পাণ্ডব ও কৌরবদের অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্যেরও গুরু তিনি, আবার কর্ণেরও গুরু তিনি। তাঁর অভিশাপের কারণেই কর্ণ অর্জুনের চেয়ে শক্তিশালী হয়েও নিজের অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করতে পারেননি। পরিণামে মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে কুরুক্ষেত্রে অর্জুনের(সহস্রার্জুনের সাথে মিলাবেন না) হাতে; এটা ছিল ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের মৃত্যু, কিন্তু তারা কেউ একে অপরকে চিনতেন না। কল্কি পুরাণ অনুসারে পরশুরাম হবেন কল্কি অবতারের অস্ত্রগুরু। পরশুরাম একুশবার সহস্রার্জুনের সহযোগী ক্ষত্রিয়দের বিনাশ করেন। ক্ষত্রিয়দের পরাজিত করে লভ্য রাজ্যগুলো পরবর্তিতে ব্রাহ্মণদের মাঝে বিলিয়ে দেন, এই ব্রাহ্মণরা ভূমিহার ব্রাহ্মণ নামে পরিচিত। এদের অনেকেই পরবর্তিতে ক্ষত্রিয় ধর্ম পালন করেছেন; যুদ্ধকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। মধ্যযুগেও সালতানাতের সৈন্য হিসেবেও এরা ছিলেন। এদের এক অংশকে মহিয়াল ব্রাহ্মণও বলা হয়; আরেক দলকে হুসেইনী ব্রাহ্মণ বলা হয় কারবালার যুদ্ধে হোসেনের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য।

এবার আসি- মোহান্ত বংশকে নিয়ে। এখানে আবার পথ দুই দিকে যায়- এক মোহান্ত বংশ আদি ব্রাহ্মণ বংশ, আরেক মোহাত বংশ সাঁঅতাল বাগদি বংশ। প্রথমে সাঁওতাল বাগদি বংশের দিকেই যাই। মোহান্ত বংশের লোকেরা ছিলেন সাঁওতাল বাগদি। এদেরকে নিচু জাতের হিসেবে গণ্য করা হত ইংরজ আমল পর্যন্তও। যেহেতু সাঁওতাল নাম জড়িত- সেহেতু এঁরা সাঁওতাল উপজাতির অন্তর্ভুক্ত হবেন, মানে এরাই আদি বাঙ্গালি সমাজের। এদের বিস্তারিত আদি ইতিহাস আমি জানতে পারিনি, নিশ্চই কোন পুস্তকে লিপিবদ্ধ আছে। তবে এটা পুস্তকের সূত্র অনুসারে নিশ্চিত যে মোহান্তরা সাঁওতাল বাগদি। এদের ব্রাহ্মণ হওয়ার সাথেও কাহিনী জড়িত। কাহিনীটি আমি পড়েছিলাম ক্লাস নাইনের হিন্দু ধর্ম শিক্ষা পাঠে। প্রভু জগদ্বন্ধু নামে এক মহাপুরুষের জীবনীতে পড়েছিলাম। বাগদিরা সমাজে সম্মান লাভের আশায় সবাই মিলে খ্রিশ্চিয়ান মিশনারীদের কাছে খ্রিশ্চিয়ান হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রভু জগদ্বন্ধু তা শুনে তাদের কাছে এলেন। তাঁদেরকে বললেন- কেন তোমরা ধর্মান্তরিত হতে চাও? বাগদিরা বললেন- আমাদের সমাজে নিচু বলে দেখা হয় তাই আমরা ধর্মান্তরিত হতে চাই। তখন জগদ্বন্ধ বললেন- কে বলেছে তোমরা নিচু। তোমার আজ থেকে মোহান্ত। এভাবে মোহান্ত সম্প্রদায় গড়ে উঠে।(বলাবাহুল্য মোহান্ত শব্দের অর্থ “মহান অন্তকরণ যার”।এই অর্থটা মায়ের মুখে শুনেছি। চাকুরীর সাক্ষাতকারে উনার কাছে প্রশ্নকর্তা জানতে চেয়েছিলেন।) মোহান্তরা শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনে্র দল গড়ে তুলেন। যেহতু আজকে মোহান্ত বংশের সবাই ব্রাহ্মণ হিসেবে সমাজে স্বীকৃত সেহেতু পরবর্তিতে তাঁদেরকে ব্রহ্ম জ্ঞানে দীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে ব্রাহ্মণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

এবার আসি দ্বিতীয় মোহান্ত বংশের দিকে। অভিধানে মোহন্ত/মহন্ত শব্দের অর্থ দেওয়া কৃষ্ণভক্ত, সংসারবিরাগী, মঠাধ্যক্ষ ইত্যাদি। তাছাড়া অনেক জায়গায় মন্দিরের প্রধান পুরোহিতকে মোহান্ত বলা হয়। সে হিসেবে মোহান্ত বংশ সর্বদা সাঁওতাল বাগদী নাও হতে পারেন। শ্রী চৈতন্য দেবের পার্ষদ হিসেবেও বৈষ্ণব পদাবলীতে মোহান্ত শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়, সেসব পদাবলীর কাহিনী ব্রিটিশ বেলার অনেক অনেক আগের, সম্রাট আকবরের সময় কালের। আর আদি ব্রাহ্মণ হিসেবে তো বৈদিক ব্রাহ্মণের সূচনা থেকেই। শ্রীকৃষ্ণ লীলা কীর্তনের সমাপনী দিনে দধির ভাণ্ড ভাঙ্গার পূর্বে কীর্তনপদের উল্লেখে আছে- “চৌষট্টি মোহান্ত আদি গৌর ভক্তগণ, আনাইলা দধির ভাণ্ড শ্রী শচীনন্দন”।শচীনন্দন হচ্ছেন শ্রীচৈতন্য দেব। শ্রী চৈতন্যদেবের মাতুলালয় নবদ্বীপ (পশ্চিমবঙ্গ) হলেও উনার পিতার আলয় সিলেটের ঢাকাদক্ষিণ। তাই এই এলাকার মোহান্তদের সাথে আদি মোহান্তদের সম্পর্কও থাকতে পারে। শ্রীচৈতন্যদেব ছিলেন আবার মিশ্র বংশের; তাঁর পিতার নাম জগন্নাথ মিশ্র। মিশ্রগণ বৈদিক ব্রাহ্মণ; তাঁদের উতপত্তি সম্পর্কে শুনেছিলাম যে দেবগুরু বৃহস্পতির ঔরসে এক মালিনীর গর্ভজাত সন্তান থেকেই মিশ্র বংশের উদ্ভব।

মোহান্ত বংশের আদি ইতিহাস বিষয়িটির মীমাংসা হচ্ছে না। শুধু ধারণা করা যায় এই দিকে না হলে ঐ দিকে। আমার বাবার মায়ের গায়ের রঙ কালো ছিল, সেখানে আমার দাদুর গাত্রবর্ণ উজ্জ্বল ছিল। মায়ের বংশের দিকেও উনারা শ্যামলা উজ্জ্বল শ্যামলা। তাই হালের দ্রাবিড়-আর্য থিওরিতে কিছুটা ভাবনা আসে। আবার এখানেও মীমাংসা হয় না। শ্রীকৃষ্ণ আর্য হলেও কালো ছিলেন, জল বিধৌত তমাল গাছের কান্ঠের মতই কালো। শ্রীকৃষ্ণ যদু বংশের, যদু বংশের সবাই নিজেদের মাঝে মারামারি করে নিশ্চিন্ন হয়ে গেলেও, যাদব উপাধির লোক এখনও পাওয়া যায় উত্তর ভারতে, এমনকি বাংলাদেশেও- সিলেটের চা শ্রমিক হিসেবে যারা আছেন। এদের অনেকে চাষা উপাধি লেখে, অনেকে গোয়ালা লেখে। এদের গায়ের রঙ কিন্তু কালো। মহাভারতের রচয়িতা ব্যাসদেবের গায়ের রঙ ছিল বিকট কালো। তাই আর্য-দ্রাবিড় থিওরিতেও মীমাংসা হয় না। তবে মূল ধারণা হল; আমার মায়ের বংশের পূর্বজরা সাঁওতাল থাকতে পারেন যারা বঙ্গদেশের আদি অধিবাসী ছিলেন; আবার আদি ব্রাহ্মণও হতে পারেন।

শেকড়ের খুঁজ করতে গিয়ে পূর্ণ মীমাংসা না পেলেও অনেক ধারণা পেয়ে গেলাম। এই হিসেবে আমার শরীরে দুই রক্তস্রোত প্রবাহিত। এক- হিমালয়ের পার্শ্ববর্তী উত্তর ভারত থেকে আগত আর্য ব্রাহ্মণদের রক্তস্রোত যারা প্রায় এক হাজার বছর আগে এদেশে এসেছিলেন। আর অন্য স্রোত হতে পারে সাঁওতাল রক্তস্রোত, মানে আমার মায়ের দিক থেকে যাঁরা সাঁওতাল বাগদি থেকে মোহান্ত/মোহন্ত/মহন্ত ব্রাহ্মণ হয়েছিলেন অথবা হতে পারে তাঁরাও আদি ব্রাহ্মণ হিসেবে আর্য ছিলেন।
_________________________

* Sharma is derived from the Sanskrit 'Sharman' which means teacher. According to Sanskrit scholar Dr. Charan Das Shastri, the word 'Sharman' refers to a universal well-wisher or sublime personality who has achieved the highest state of concentration. According to scholars Pt. Raghunath Prashad Shastri and Yaskacharya the word Sharma refers to 'Srinatehimsayam-dhatu' — the sacred person who eradicates his own sins and those of mankind with acquired powers of self-consciousness.
১৯ টি মন্তব্য
zamanarshad জামান আরশাদ১১ অক্টোবর ২০০৯, ০৩:১৫
অনেক বড় লেখা।
প্রথম একটু পড়েই মনে হলো তথ্যবহুল লেখা হবে।
অফিসের কাজে ব্যাস্ত, তাই পরে পড়ে মন্তব্য করবো আশা রাখি।
sharmabangla সজল শর্মা১২ অক্টোবর ২০০৯, ০৩:২০
ধন্যবাদ পড়ার জন্য। ভাল থাকবেন।
mdshafiuddin শাফি উদ্দীন১১ অক্টোবর ২০০৯, ০৭:১৫
আপনার প্রত্যেকটি লিখা বেশ তথ্যবহুল। সময় লাগলেও ভালো লাগে। কেমন আছেন।
sharmabangla সজল শর্মা১২ অক্টোবর ২০০৯, ০৩:২১
পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
neelsadhoo নীলসাধু১১ অক্টোবর ২০০৯, ১০:১৮
ধন্যবাদ ।
অনেক কিছুর বর্ননা দিলেন ।
কত কি জানি না তাই ভাবি ।

ভালো থাকুন ।
sharmabangla সজল শর্মা১১ অক্টোবর ২০০৯, ০৩:০৬
শুভেচ্ছা রইলো। ভাল থাকুন।
kabirony কবিরনি১১ অক্টোবর ২০০৯, ১০:২০
আমার শিকড়ো খুজতে ইচ্ছা জাগল আপনার পোষ্ট পড়ে।
যত দূর জানি আমরা সৈয়দ বংশ।
বাবা সৈয়দ সাজেদুল হক।
দাদা সৈয়দ আবু ছালেহ
দাদা'র বাবা : সৈয়দ এহছান আলি
.......................................
ভারতের থেকে আমার পূর্বপুরুষেরা এদেশে এসেছে। আমাদের বর্তমান ভিটা'র আশেপাশে প্রায় ৭০০ একর জমি একজন জমিদার/রাজা দান করে আমাদের দাদার বাবা সৈযদ এহছান আলীর দাদাকে। নাম গুলো খেয়াল নেই। কথিত আছে উনি পীর ছিলেন এবং ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য বেরিয়ে ছিলেন। পথিমধ্যে উক্ত জমিদার/রাজা কে ইংরেজদের হাত থেকে রক্ষা করেন। তাই খুশি হয়ে তাকে তার পছন্দ মত এই জমি দেওয়া হয়্
বর্তমানে অবশ্য ৭০০একর এর ৭ কাঠাও অবশিষ্ট নেই।

.....................................................
এরকম খাপছাড়া ইতিহাস জানা। দেখি বাকীটা জানার চেষ্টা করব।
sharmabangla সজল শর্মা১১ অক্টোবর ২০০৯, ০৩:০৪
হ্যাঁ- মুঘল, পাঠান, শেখ, সৈয়দ- মুসলমানদের মাঝে এই চার বংশ খুব নামকরা, আমাদের মোওলানা স্যারের কাছে শুনেছিলাম।
আপনার সম্পূর্ণ ইতিহাসের অপেক্ষায় রইলাম। আশাকরি শেয়ার করবেন।
ধন্যবাদ আপনাকে।
mouse মাউস১১ অক্টোবর ২০০৯, ১০:৫২
আমারো কখনো কখনো বংশের সর্ম্পকে জানতে ইচ্ছা হয়।দেখি আজ থেকে গবেষনা শুরু করি।:q
sharmabangla সজল শর্মা১১ অক্টোবর ২০০৯, ০২:৫৯
হ্যাঁ- বয়স্ক যাঁরা আছেন তাঁদের সাথে গল্প করলেই পেয়ে যাবেন। ধন্যবাদ।
sajalchakraborty হাজারি১১ অক্টোবর ২০০৯, ১১:২৪
দাদা, মনের কথা বললেন..............।
আমি ও ছোট কাল থেকেই শেকড় খুঁজি

ছোটবেলায় দাদুর ঘরে শুতাম পাশাপাশি খাটে..।
তারপর প্রশ্ন আর প্রশ্ন ?
আমার দাদু কবিরাজ ছিলেন.।উনার দাদুই প্রথম আসেন হাটহাজারীতে.।
আমরা নাকি আসাম রাজ-চক্রবর্তী বংশ, ওখান থেকে কোন এক শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের দক্ষিণা হিসাবে হাঠাজারী'র হালদা উপকূলের জায়গা দান সূত্রে পাওয়া....।
এবং আমাদের পূর্বপুরুষের আগমন......

সত্যতা বিচার করে দেখিনি....।
মায়ের দিকটা আরো জটিলললললল....।

ভালোলাগলো আপনার পোস্ট......।
sharmabangla সজল শর্মা১১ অক্টোবর ২০০৯, ০২:৫৮
আপনার হাজারী নাম দেখে প্রথমে ভাবতাম আপনি মুসলমান হবেন। আচ্ছা এই উপাধির ইতিহাস বলতে পারেন। রাজ-চক্রবর্তীরা হলেন আদি চক্রবর্তী ব্রাহ্মণ। এঁরা চক্রবর্তী সম্রাটদের কুলগুরু বা পুরোহিত ছিলেন। কেউ কেউ আবার এঁদেরকে ব্রহ্ম ক্ষত্রিয়ও বলেন।
আমার যে মেসোর কথা বললাম- উনি তো এখানকার বল্লালী বর্ণপ্রথার ব্যাপারে জানেন। তাই তিনি কিছুটা কট্টুর মানসিকতা সম্পন্ন। এমনিতে সবকিছুতেই উনি শাস্ত্রমতে চলেন। উনি রাজ-চক্রবর্তী ছাড়া বাংলাদেশের কোন চক্রবর্তীকে ব্রাহ্মণ হিসেবে সম্মান করেন না। উনার কথায়- বল্লাল সেনের সৈন্য হিসেবে কর্মরত যারা মালি বংশের ছিল ওরাই চক্রবর্তী হয়েছিল। ব্রাহ্মন হয়ে গেছে তো হয়ে গেছে- এ ব্যাপারে দ্বিমত রেখে আর কি হবে- ওরা এখন মাঙ্গলিক সংস্কারের মাধ্যমেই ব্রাহ্মণ হচ্ছে। কিন্তু উনি একটু ওরকমই। হয়তো আগেকার বৈষম্য উনি মেনে নিতে পারননি।
sajalchakraborty হাজারি১২ অক্টোবর ২০০৯, ০৯:৪৬
হাটহাজারীতে আমার জন্ম বলেই আমি হাজারি।
দাদা, আসলে আমার জ্ঞান পরিধি অতটুকু পরিব্যপ্ত নয়.........এই পোস্টেই অনেক কিছু জানলাম।আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
আমাদের এলাকায় আমাদের গুষ্টির লোক বেশ ভাব নিয়েই চলে , তারা ব্রাহ্মণ ,
আমি কখন ও সে পথে যায় নি.........।
আর খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে তো অনেক রুলস এন্ড রেগুলেশনস...।
আমার উপনয়নের পর একবছর খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে একটু মানতে হয়, আমি মেনেছিলাম মাত্র একমাস,আমার এখনো মনে আছে,মজুমদার বাড়ীর নিমন্ত্রনে কাকু যেতে পারে নাই বলে উনার ভাত স্কুল থেকে ফেরার পথে আমার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়... আমি পুকুর ঘাটে বসে দিব্যি মাংস সব সাবাড় করে দিয়েছিলাম।
আমার খাওয়ার প্রতি চাপা এক প্রকারের লোভ থাকার কারনে নয়,আমি নিজে মনে প্রাণে বিশ্বাস করতাম খাওয়ার কারনে জাত যাবে এটা নিছক বাতুলতা....
শরৎচন্দ্র পড়ে মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো আমার............।

আমাদের বাড়ীতে কোন নিমন্ত্রন হলে দেখতাম ব্রাহ্মণদের(পূজারী) জন্য আলাদা পাক,তারা ভিতরের বাড়ীতে খাইতো,আমি পৈতা গায়ে দিয়া এঁটো পরিস্কার করতাম বাইরে খেতে দেওয়া গ্রামবাসীর। আমার দাদু একজন শ্বাত্বিক ব্রাহ্মণ ছিলেন ,উনি পিয়াঁজ রসূন মাংস খেতেন না।উনি মারা যাওয়ার পর উপরের নিয়ম আর রাখিনি....।
যতটুকু মনে পরে উনার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে সবাইকে একসাথে খাওয়াই ছিলাম,এতে গ্রামে অন্যান্য ব্রাহ্মণদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিলো...।
তারা আমাদের বাড়ীতে খেতে আসতে দ্বিধা বোধ করতো তবে নাএসে পারতো না.....


ভালও থাকবেন....এই রকম পোস্ট আর ও চাই...।
Yahoo Add: saju(underscore)chak@yahoo.co.in,
sajalch@gmail.com

ভালো থাকবেন।
greenbangla মোজাম্মেল কবির১২ অক্টোবর ২০০৯, ০১:৪৯
শেকড়ের সন্ধানে অনেক গভিরে নিয়ে গেলেন সজল দা ।
কেমন যাচ্ছে সজল দা ...?
কত ...দিন ...দেখা ....হয়নি .....
sharmabangla সজল শর্মা১২ অক্টোবর ২০০৯, ০৩:২১
ভাল আছি। আমি আসি- কিছুসময় থাকি আবার চলে যাই। শুভেচ্ছা রইলো।
mou মৌসুমী দত্ত১২ অক্টোবর ২০০৯, ০৯:৪৭
বুঝলাম সবারই শেকড়ের সন্ধান করা উচিত।
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
sharmabangla সজল শর্মা২৮ নভেম্বর ২০০৯, ১২:৪১
ধন্যবাদ শ্রীমতি।
shravanakash শ্রাবণ আকাশ২৮ মে ২০১০, ২৩:৪৬
শেকড়ের খোঁজেই শুরু করেছিলাম "বাঙ্গালীর ইতিহাস : আদি পর্ব" - নীহাররঞ্জন রায়। জাতিভেদ আর বর্ণপ্রথায় এখনো ঘুরপাক খাচ্ছি। তবে ইচ্ছেটা প্রথম জেগেছিল বছর কয়েক আগে তারাশঙ্করের "কীর্তিহাটের কড়চা" পড়ে। ওটা পড়তে পড়তেই নিজের অন্ধকারদিকগুলোর দিকে আলোকপাত করেছিলাম। এক এক করে একটা লিস্টও তৈরী করে নিয়েছিলাম। ভাবতাম রক্তের মধ্যে এসব ঢুকল কি করে? পূর্বপুরুষদের খোঁজ যারা দিতে পারতেন, যতদিনে উপলব্ধি হলো ততদিনে তাদের সবাইই অতীত হয়ে গেছেন।
শেষে বুঝেছি যে রক্তে যাই থাক না কেন, সেটা কন্ট্রোল করার ক্ষমতা মানুষের আছে। এখন এই কন্ট্রোলের উপরেরই বেশী জোর দিচ্ছি।
sharmabangla সজল শর্মা২৯ মে ২০১০, ১৫:৩৯
রক্তের টান যাই হোক না কেন, মানুষ বিবেক দিয়ে পরিবর্তন আনতে পারে।