নারী সভ্য হয়েছিল পুরুষের আগে
[নারী পুরুষের চেয়ে পঞ্চাশ সহস্রাধিক বছর আগে সভ্য হয়েছিল। নারী মানুষ হয়েছিল, পুরুষ মানুষ হওয়ারই আগে।]
পৃথিবী জুড়ে গবেষণা চলছে মানুষ বর্তমান রূপে কিভাবে এল বিবর্তনের ধারায়। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রাপ্ত জীবাশ্ম, কঙ্কাল, মাথার খুলি, চোয়ালের হাড় প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন থিওরি এসেছে। বর্তমানে একটি থিওরি হচ্ছে ‘আউট অব আফ্রিকা’ থিওরি। মানে পৃথিবীর সকল মানব জাতির পূর্বপুরুষ আফ্রিকা থেকে এসেছে। পূর্ব আফ্রিকায় সবচেয়ে পুরাতন মানব-পূর্বপুরুষের চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছে। গবেষকরা ধারণা করে করে পূর্ব আফ্রিকা থেকে প্রিথিবীর অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য পথ চিহ্নিত করে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান ও খনন চালিয়ে প্রাচীন মানবদের চিহ্ন পেয়েছেন এবং সময়কালও নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে। যদি আমরা সবাই আফ্রিকান হয়ে থাকি, তাহলে বর্তমানে আমরা কেন ভিন্ন ভিন্ন রঙের। এসবেরও বিভিন্ন ব্যাখ্যা এসেছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, পৃথিবীর বিরূপ আবহাওয়ার সাথে যুদ্ধ করে করে অভিযোজিত হয়েছে মানব জাতি, তাদের অভিযোজনের প্রয়োজনেই এসেছে বিভিন্ন এলাকায় শরীরের বিভিন্ন বাহ্যিক রূপ। আমাদের সেই পূর্বপুরুষদের সময়কাল দেড় লক্ষ থেকে দুই লক্ষ বছর আগের, আর আফ্রিকা থেকে তাদের ছড়িয়ে পড়াও ছিল ষাট হাজার থেকে সোয়া এক লক্ষ বছর আগে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে অনেক বিশদ আকারে লেখতে হবে, আমার আজকের লেখাটি ঠিক এই বিষয়ে মূল বর্ণনা নিয়ে নয়। তাই তথ্যপিপাসু পাঠকদের জন্য আমি পথচিহ্ন দিয়ে যাচ্ছি, যারা আগ্রহী তারা বিস্তৃত পরিসরে জানতে ও দেখতে পারবেন নিচের লিংক থেকেঃ
The Incredible Human Journey (BBC)- Dr Alice Roberts
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এর ‘দ্য জেনোগ্রাফিক প্রজেক্ট’ এর ‘হিউম্যান মাইগ্রেশন’ মানচিত্র দেখতে পারেন নিচের লিংক থেকে। এই লিংকে ক্লিক করলে যে পেইজ আসবে তার মাঝে দেখুন উপরে সময়কাল অংকে লেখা আছে। সেই সময়কালের নিচের বক্সে ক্লিক করুন। নিচে মানচিত্র পেয়ে যাবেন। অথবা একেবারে ডান দিকের প্লে চিহ্নতে ক্লিক করে করে দেখতে পারবেন।
The Genographic Project- Atlas of the Human Journey
New Research Confirms 'Out Of Africa' Theory Of Human Evolution
এখন আমার মূল আলোচ্য বিষয়ে যাচ্ছি। গবেষণালব্ধ তথ্যের সাথে আমার নিজস্ব ধারণার আলোকেই পরবর্তি অংশ আসবে। তা পাঠক মাত্রই বুঝতে পারবেন, গবেষণার প্রয়োজনীয় রেফারেন্স দুইটি দিয়েছি, স্থানে স্থানে আরও দেব।
বর্তমানে মানব পূর্বপুরুষ নির্ধারণে ‘মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ’ কথাটি বহুল শুনা যায়। প্রথমেই বলে নেওয়া ভাল, এর সাথে বাইবেলের ঈভের কোন সম্পর্ক নেই। শুধু এভাবে নামকরণ করা হয়েছে। এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভকে মাতৃসূত্রে পৃথিবীর সকল নারীর পূর্বসুরী মনে করা হয়। মানে এই নারী থেকেই পৃথিবীর সকল নারী এসেছে। এই গবেষণার মূল হচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ। তা প্রজন্মের পরে প্রজন্ম অবিকৃত অবস্থায় থাকে। মানে দুই লক্ষ বছর আগের সেই মানব মাতার মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ অপরিবর্তিত অবস্থায় বর্তমান মাতাদের মাঝেও আছে। কিভাবে? আমরা জানি যেকোন কোষেই অনেক অনেক উপাদান রয়েছে, তার মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়া। যারা জীববিদ্যা পড়ে এসেছেন তারা স্মৃতি হাতড়ে দেখতে পারেন, পাঠ্য বইয়ে লেখা ছিল- মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাইজ বলা হয়। একটি ডিম্বানুতেও মাইটোকন্ড্রিয়া আছে। মাইটোকন্ড্রিয়াতে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ আছে। এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বংশ গতির ধারায় কোন ভূমিকা রাখে না, তবে অবিকৃত অবস্থায় অপত্য কোষে যায়। বংশগতির ধারায় ভূমিকা রাখে ক্রোমোসোমাল ডিএনএ যা নারী ও পুরুষ উভয়ের কাছ থেকেই আসে। নারীর ডিম্বাণুতে শুক্রাণু প্রবেশের পরে যে সকল পরিবর্তন ঘটে তা মাইটোকন্ড্রিয়ায় কোন পরিবর্তন সাধন করে। শুক্রাণুর নিউক্লিয়াস ২৩ টি ক্রোমোসোম বহন করে, ডিম্বানুর নিউকিয়াসের আরও ২৩ টি ক্রোমোসোমের সাথে মিলে ২৩ জোড়া কোমোসোম এই ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মাঝে ২২ জোড়াকেই অটোসোম বলে, এবং এই জোড়াগুলোর প্রত্যেকটি জোড়ায় ক্রোমোসোমদ্বয় পরস্পরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। শুধুমাত্র এক জোড়া ছাড়া, যাকে সেক্স ক্রোমোসোম বলে, আর এটাই নির্ধারণ করে ছেলে অথবা মেয়ে। তার উভয়ে সদৃশ(XX) হলে মেয়ে হয়, বিসদৃশ(XY) হলে ছেলে হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে নিউক্লিয়াসের ক্রোমোসোমাল ডিএনএ নারী-পুরুষ উভয়েরই জেনেটিক তথ্য বহন করে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পরিবর্তনের বাইরে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ মা থেকে অপরিবর্তিত অবস্থায় সন্তানের মাঝে যায়, ছেলে মেয়ে উভয়ের মাঝে যায়। ছেলে পর্যন্ত গিয়েই থেমে যায়। কিন্তু মেয়ে থেকে তার মেয়েতে, সেই মেয়ে থেকে তার মেয়েতে-> তার মেয়েতে-> তার মেয়েতে; এভাবেই চলতে থাকে। এভাবেই বর্তমান থেকে প্রাচীনের দিকে খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের সামনে এসেছে যে পৃথিবীর বর্তমান সকল মানবের এক মাতা ছিল পূর্বে। তবে এখানে জেনে রাখা দরকার, সেই আদিমাতার সমসাময়িক আরও মাতা ছিলেন, তাদের জেনারেশনের পথ থেমে গেছে বা তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। গবেষণায় এটাও পাওয়া গেছে যে আরও অনেক মানব প্রজাতি ছিল, তারা হারিয়ে গেছে; তাদের প্রাপ্ত জীবাশ্ম-কঙ্কাল থেকে এসেছে এসব তথ্য। আদিমাতাদের জেনারেশন থেমে যাওয়ার সহজ নিদর্শন হচ্ছে ছেলে, কারণ ছেলে পর্যন্ত মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ যেতে পারে, কিন্তু ছেলে থেকে ছেলের সন্তানের মাঝে যাবে না। সেই মাতার কোন মেয়ে না থেকে থাকলে তার জেনারেশন সেখানেই থেমে গেছে। এই দিকটা হল জেনেটিক বিলোপ। এর বাইরে প্রাকৃতিক কারণ থাকতেই পারে। লক্ষ বছরের গতি ধারায় সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে গিয়ে অন্যরা হারিয়ে গেছে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভকে তাই বলা হয় ম্যাট্রিলিনিয়াল মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর। নিচের ছবির মাধ্যমে হয়তো সহজ ধারণা পাওয়া যাবে।

Matrilineal Ancestor
মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেঃ
'Mitochondrial Eve': Mother of All Humans Lived 200,000 Years Ago
Mitochondrial Eve
এবার আমরা পরিচিত হই ‘ওয়াই ক্রোমোসোমাল এডাম’ এর সাথে। আমরা জানি যে পুরুষ নির্ধারণের ক্রোমোসোম হচ্ছে ওয়াই-ক্রোমোসোম। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের পুরুষদের ওয়াই ক্রোমোসোমাল ডিএনএ এর উপর গবেষণা করে জেনেটিস্ট স্পেন্সার ওয়েলস বলেন যে পৃথিবীর বর্তমান সব পুরুষরা পৈতৃক ভাবে একই পিতা থেকে আগত। তাই এই ডিএনএ-কে প্যাট্রিলিনিয়াল মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর বলা হয়।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত পড়তে-
Y-chromosomal Adam
ধারণা করা হয় মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ দুই লক্ষ বছর আগে বেঁচেছিল। যা ওয়াই ক্রোমোসোমাল এডামের চেয়ে পঞ্চাশ থেকে আশি হাজার বছর আগের। এখানেই অনেকেই হয়তো চমকে উঠেছেন, এটা কি করে সম্ভব। এমন হলে বংশগতির ধারা চলল কিভাবে? আপনারা খেয়াল করে থাকবেন এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ বা এডামের ব্যাপারে বলা হচ্ছে মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর। তার মানে দাঁড়ায় ঈভের আগেও আরও ঈভ ছিল। ঈভের সময়েও আরও ঈভ ছিল। ঠিক তেমনি এডামের আগেও আরও এডাম ছিল। মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভকে বলা হচ্ছে আধুনিক মানব জাতির এনসেস্টর। তেমনি ওয়াই ক্রোমোসোমাল এডাম আধুনিক মানব জাতির সব পুরুষের আদি পিতা। আরেকটু বিস্তারিতভাবে বলি।
মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ যখন বিবর্তন ধারায় আধুনিক মানব জাতির মাতা হয়ে গেছে, তখন তাদের সমসাময়িক পুরুষ বিবর্তনের ধারায় আধুনিক হয়নি। মানে তখনও তারা মানুষ হয়ে উঠেনি। তারা রূপান্তরের পথে ছিল। তখনও নারী-পুরুষে যৌনতা হয়েছে, সন্তান এসেছে, কিন্তু বিবর্তন ধারায় পুরুষ পিছিয়ে ছিল। এটা তাদের কাছে ধরা পড়েনি, ধরা পড়ার কথাও না। এটা ডিএনএ গবেষণায় এসেছে। একটু উদাহরণ দিয়ে বুঝাতে গেলে, মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভের সমসাময়িক পুরুষ তখনও লোমশ পশুর মত হয়তো ছিল, তাদের মুখাকৃতি, তাদের দাঁত, তাদের শরীর তখনও হয়তো বিবর্তন ধারার পূর্বপুরুষদের মত ছিল- মানে গরিলা ও শিম্পাঞ্জির কাছাকাছি প্রজাতির ছিল। কিন্তু তখনকার নারীরা এখনকার নারীদের মতই হয়ে গিয়েছিল। তাহলে দেখা যাচ্ছে বিবর্তনের ধারায় সভ্যতার পথে নারীরা এগিয়ে ছিল। নারীরা যখন পশু থেকে মানুষ হয়েছে, পুরুষরা তখনও পশু ছিল। এটা এখনও লক্ষ্য করা যায়, সমবয়সী ছেলে ও মেয়ের মাঝে মেয়েটির শরীর ছেলেটির শরীরের আগে বয়োপ্রাপ্তির পথে যায়। সমবয়সী একটি ছেলের আগে একটি মেয়ের মানসিকতার বিকাশ ঘটে। তারপর একসময় থেমে যায়। ছেলেটির দেরীতে আরম্ভ হয়, দেরীতেও শেষ হয়; মানে উভয়ই নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত চলে।
জেনেটিক থেকে এখন আমরা সমাজ বিজ্ঞানের দিকে আসি। এখানকার আলোচনা উপরের আলোচনার আঙ্গিকে আমার নিজস্ব ধ্যান-ধারণাকে রিপ্রেজেন্ট করবে।
জেনেটিক্যালি আমরা দেখেছি নারী পুরুষের চেয়ে আগে সভ্য হয়েছে। সামাজিক জীবনেও কিন্তু তারা পুরুষের আগেই আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। কিভাবে? সভ্যতার মূল ভিত্তি হল কৃষি। আর তার পত্তন নারীর হাতেই। পুরুষরা তখনও বন্য-শিকারী। অস্ত্র হাতে দল বেঁধে শিকার করত। নারীরা শিকারে যেত না, তারা ফলমূল, লতাপাতা সংগ্রহের কাজে থাকত। হ্যাঁ কন্ডিশনালী উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে, শিকারেও নারী সাহায্য করেছে, ফলমূল সংগ্রহে বা আবাসের কাজে পুরুষও সাহায্য করেছে। কিন্তু মোস্ট কমন কাজ ছিল পুরুষদের জন্য শিকার। নারীদের জন্য গৃহস্থালি। এখনও আফ্রিকার অরণ্যে বসবাসরত আদিবাসীদের জীবন ধারায় এমনটাই লক্ষ্য করা যায়। যারা ডক্যুমেন্টারী দেখেছেন তাদের নিশ্চই ধারণা আছে এ ব্যাপারে। পুরুষরা শিকার করে, আক্রমনকারী পশু বা অন্যদলের কাছ থেকে নিজেদের রক্ষা করে- যুদ্ধ করে। এভাবেই পুরুষরা যখন বাইরে শিকারে অথবা যুদ্ধে ব্যস্ত নারী দেখেছে খাবারের উচ্ছিষ্ট থেকে নতন ফসল ফলছে। তখন সেটাকে তারা এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকল পরিচর্যা করে, কষ্ট করে গহীন অরণ্য থেকে ফলমূল আনার বদলে তারা আবাসের পাশেই ফলমূল পেতে থাকল। এমনকি পুরুষরা শিকার করে যেসব প্রাণী ধরে আনত, সেই প্রাণীদের মাঝে হিংস্র নয় এমন প্রাণীও ছিল। যেমন বন্য গরু-ছাগল জাতীয় অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণী। আমরা আমাদের বাংলাদেশী গ্রামীন সমাজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখব যে গোবাদি পশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে নারীরাও ভূমিকা রাখেন। মাঠে ঘাস খাওয়ানো ছাড়া ঘরের বেশিরভাগ কাজই কৃষক ও গৃহস্থ বাড়িতে নারীকে করতে দেখেছি। গরুঘর পরিস্কার করা, গরুকে ভাতের মাড়-কুড়া খাওয়ানো ইত্যাদি কাজ নারীরাই করেন। ঠিক এভাবেই আমাদের প্রাচীন মাতারাও পশু পালন ও পরিচর্যার গোড়া পত্তন করেছিলেন। এটুকু আমরা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি।
তাই দেখা যাচ্ছে সভ্যতার পথে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিক নারীরাই শুরু করেছেন। পুরুষরা যখন সহিংস পথে, তখন তারা অহিংস পথের সন্ধানে ছিলেন। এই উভয় পথের মূলেই কিন্তু আমরা পাব কোমলতা ও অহিংসার চিন্তা-চেতনা। ফসলের পরিচর্যায়ও মমতা লাগে, শ্রম লাগে। যেন তেন করলে ফসল হয়তো ফলে কিন্তু ভাল ফলে না। তেমনি পশু পালনেও মমতা লাগে। আর আমি বাস্তবে অনেক নারীর সাথেই কথা বলে দেখেছি, তারা নিজেরা মাংস খান ঠিক আছে, কিন্তু চোখের সামনে পশু হত্যা সহ্য করতে পারেন না। আমরা ধরে নিতেই পারি আমাদের আদি মাতাদের মাঝেও ঠিক এমন চেতনা ছিল। আর এই চেতনাগুলোই আজ আমাদেরকে সভ্য করেছে। যাযাবর পশু-শিকারি মানুষ বসত গড়েছে। কৃষি কাজে লেগেছে। গ্রাম হয়েছে। নগর হয়েছে। দেশ হয়েছে।
সভ্যাতার দৌঁড়ে নারীরা যখন সভ্যতার গোড়া পত্তনে, তখন পুরুষও কিন্তু ভূমিকা রেখেছে। শিকার করে আমিষের চাহিদা মিটিয়েছে। বন্য প্রাণীর হাত থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। শত্রুদলের হাত থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। আদিবাসী জীবন ধারায় বিভিন্ন অঞ্চলে এটা খুব সাধারণ ছিল যে একদল আরেকদলকে আক্রমন করত। নারীদের ধরে নিয়ে যেত। পুরুষদের হত্যা করে যেত। পুরুষরাও এসব মাথায় রেখেই বর্তমান সমাজ ধারার পথে এগিয়ে গেল। যুদ্ধের প্রয়োজনে অস্ত্র বানানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। অস্ত্র শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। দলবেঁধে থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। শুধু তাই নয় বৃহত সুরক্ষার জন্য রাজনীতিরও প্রয়োজন অনুভব করল। এক দলের সাথে অন্যদলের সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজন অনুভব করল। যার মধ্যে ছিল পরস্পরের মাঝে উপহার আদান-প্রদান, বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন। পুরুষ এভাবেই চলার পথে নিজেদের মধ্যে আইন-কানুন ও প্রথার সৃষ্টি করল। শিকার জীবন থেকে পিছিয়ে পড়া নারী মহান দুটি ধারার সূচনা করলেও তারা ঘরেই রয়ে গেল। পুরুষ তখন বাইরের দিকেই আধিপত্য গড়তে থাকল। আর সেই আধিপত্যের মনোভাব এখনও পুরুষদের মাঝে চলমান। সবচেয়ে হাস্যকর বিষয়, আমি যখন কথায় কথায় বলছিলাম- নারীরা পুরুষদের চেয়ে আগে সভ্য হয়েছে, তখন কিছু পুরুষের রিএকশন ছিল- “এটা কি বলেন? তাহলে এটা আর কাউকে বলা যাবে না। ইজ্জতের প্রশ্ন মিয়া”। বিবর্তনের ধারায় হাজার বছরের আধিপত্য মানসিকতাকে কত বদলে দিয়েছে। অথচ না এই প্রসঙ্গ কোন লজ্জার, না কোন গৌরবের। না বিবর্তনের ধারায় কারও নিজের হাত আছে। বিবর্তন এখনও চলে, সময়ের সাথে সাথে আমাদের অনেক ফিজিক্যাল পরিবর্তন আসছে। ট্রান্সজেন্ডার সমস্যা হচ্ছে- কেউ ছেলে না মেয়ে বুঝার উপায় নেই, কেউ ছেলে হয়েও মেয়ে, কেউ মেয়ে হয়েও ছেলে। আমরা লম্বাকৃতি থেকে খর্ব হচ্ছি। আমাদের চুল আগে পাকছে। দাঁত আগে পড়ছে। চোখের দৃষ্টি কমছে। এভাবে সবগুলো পরিবর্তন বা রোগ বংশগত না হলেও অনেকগুলো বংশগত হয়ে পড়ছে। যদিও এটাকে ঠিক সেই বিবর্তনের কাতারে ফেলা যায় না। আমি মাত্র হালকা উদাহরণ দিলাম। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, তাই আগে থেকেই বলে নেই সেই বিবর্তনে লেগেছে লক্ষ লক্ষ বছর, পৃথিবীর জলবায়ুও অনেক বিষমভাবাপন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এসেছে। যা এখন স্ট্যাবল আছে বলা যায়। তাই আমরাও স্ট্যাবল আছি। তবে ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর উপর ভিত্তি করে চারপাশে তাকালে এখনও আমরা দেখতে পাব, আমাদের মাঝে অনেক অনেক পরিবর্তন রয়ে গেছে। আমরা সবাই ভেতরে-বাইরে সদৃশ নই।
এ বিষয়ে পরবর্তিতে কোন পর্ব লেখলে সেখানে বিবর্তনের ধারায় মানুষের জীবনে পোশাকের প্রভাব ও ধর্মবিশ্বাসের কথা লেখার চেষ্টা করব। আজ এদিকটাই থাক।
শেষ করার আগে, মানব প্রজাতির মধ্যে একমাত্র হোমো স্যাপিয়েন্সই বেঁচে আছে। এই প্রজাতি ছাড়াও আরও অনেক প্রজাতি ছিল। যাদের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। কঙ্কাল পাওয়া গেছে। তাদের বেঁচে থাকার সময়কালও নির্ধারণ হয়েছে। এমনকি দুই প্রজাতির একসাথে অবস্থানেরও বিষয়টি পাওয়া গেছে। যেমন, হোমো স্যাপিয়েন্স ও হোমো নিয়ান্ডার্থাল প্রজাতির একসাথে অবস্থানের প্রমান পাওয়া গেছে। কিন্তু অজানা কারণে তারা হারিয়ে গেছে। হতে পারে হোমো স্যাপ্যিয়েন্সদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি; অথবা কোন প্রাকৃতিক কারণ। অনেকে মনে করেন, বিভিন্ন প্রজাতির মানবদের মাঝেও ইন্টারসেক্স হয়েছিল। হয়তো হয়েছিল, কিন্তু তার কোন প্রমান এখনও মেলেনি। এ ব্যাপারে ডিএনএ জরীপ চালানো হয়েছিল সম্ভাব্য এলাকায়, নিয়ানডার্থাল ও স্যাপিয়েন্সদের মাঝে কোন আন্ত-যোগাযোগ ছিল কি না দেখতে, কিন্তু কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। নিয়ানডার্থাল পুরুষের চেহারা কদাকার ছিল, তাই স্যাপিয়েন্স নারীর পছন্দ না হবারই কথা। ঠিক এমনই ভাবে বিপরীতেও হয়েছে হয়তো, স্যাপিয়েন্স পুরুষ সুদর্শন হলেও, নিয়ানডার্থাল নারী কুরূপা ছিল। অথবা ইন্টারসেক্স-জেনারেশনের অভিযোজন ক্ষমতা ছিল না যে পরবর্তি প্রাকৃতিক দূর্যোগের চড়াই-উতরাই পার হবে। কারণ একমাত্র বিশুদ্ধ স্যাপিয়েন্সরাই বেঁচে আছে। অন্যদিকে চায়নিজরা নিজেদের আলাদা জেনারেশন মনে করে, তারা নিজেদের হোমো ইরেক্টাস মনে করে, সেখানে পাঠ্য বইয়ে তাই পড়ানো হয়। এ নিয়ে বিতর্ক আছে, গবেষণায় দেখা গেছে, বাহ্যিক ব্যবধান থাকলেও এরাও হোমো স্যাপিয়েন্স। প্রাপ্ত জীবাশ্ম ও কঙ্কালের উপর ভিত্তি করে স্পেশ্যালিস্ট চিত্রকরের আঁকা কিছু ছবি দিচ্ছে, ছবিগুলো নেট থেকে নিয়েছি।
প্রাপ্ত কঙ্কাল থেকে স্পেশ্যালিস্ট চিত্রকরের আঁকা (হব্বিট বা হোমো ফ্লোরেসিয়েনসিস)
হোমো নিয়ানডার্থাল

হোমো হাইডেলবারজেন্সিস

Homo erectus

Homo ergaster

Homo rudolfensis
Homo sapiens
কৃতজ্ঞতা: মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ ও ক্রোমোসোমাল এডাম বিষয়ে সরবরাহকৃত লিংক ছাড়াও তথ্য পেয়েছি ব্লগার বেলের কাঁটা, যুদ্ধদেব, হোরাস ও ঋণগ্রস্থের আলোচনা থেকে। আর এই বিষয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ধন্যবাদ জানাই তথ্যপথের পিপাসু ব্লগার রাতের আকাশকে, ইউটিউব লিংক ও জেনোগ্রাফিক প্রজেক্টের লিংক তিনিই আমাকে পাঠিয়েছিলেন।
পৃথিবী জুড়ে গবেষণা চলছে মানুষ বর্তমান রূপে কিভাবে এল বিবর্তনের ধারায়। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রাপ্ত জীবাশ্ম, কঙ্কাল, মাথার খুলি, চোয়ালের হাড় প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন থিওরি এসেছে। বর্তমানে একটি থিওরি হচ্ছে ‘আউট অব আফ্রিকা’ থিওরি। মানে পৃথিবীর সকল মানব জাতির পূর্বপুরুষ আফ্রিকা থেকে এসেছে। পূর্ব আফ্রিকায় সবচেয়ে পুরাতন মানব-পূর্বপুরুষের চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছে। গবেষকরা ধারণা করে করে পূর্ব আফ্রিকা থেকে প্রিথিবীর অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য পথ চিহ্নিত করে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান ও খনন চালিয়ে প্রাচীন মানবদের চিহ্ন পেয়েছেন এবং সময়কালও নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে। যদি আমরা সবাই আফ্রিকান হয়ে থাকি, তাহলে বর্তমানে আমরা কেন ভিন্ন ভিন্ন রঙের। এসবেরও বিভিন্ন ব্যাখ্যা এসেছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, পৃথিবীর বিরূপ আবহাওয়ার সাথে যুদ্ধ করে করে অভিযোজিত হয়েছে মানব জাতি, তাদের অভিযোজনের প্রয়োজনেই এসেছে বিভিন্ন এলাকায় শরীরের বিভিন্ন বাহ্যিক রূপ। আমাদের সেই পূর্বপুরুষদের সময়কাল দেড় লক্ষ থেকে দুই লক্ষ বছর আগের, আর আফ্রিকা থেকে তাদের ছড়িয়ে পড়াও ছিল ষাট হাজার থেকে সোয়া এক লক্ষ বছর আগে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে অনেক বিশদ আকারে লেখতে হবে, আমার আজকের লেখাটি ঠিক এই বিষয়ে মূল বর্ণনা নিয়ে নয়। তাই তথ্যপিপাসু পাঠকদের জন্য আমি পথচিহ্ন দিয়ে যাচ্ছি, যারা আগ্রহী তারা বিস্তৃত পরিসরে জানতে ও দেখতে পারবেন নিচের লিংক থেকেঃ
The Incredible Human Journey (BBC)- Dr Alice Roberts
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এর ‘দ্য জেনোগ্রাফিক প্রজেক্ট’ এর ‘হিউম্যান মাইগ্রেশন’ মানচিত্র দেখতে পারেন নিচের লিংক থেকে। এই লিংকে ক্লিক করলে যে পেইজ আসবে তার মাঝে দেখুন উপরে সময়কাল অংকে লেখা আছে। সেই সময়কালের নিচের বক্সে ক্লিক করুন। নিচে মানচিত্র পেয়ে যাবেন। অথবা একেবারে ডান দিকের প্লে চিহ্নতে ক্লিক করে করে দেখতে পারবেন।
The Genographic Project- Atlas of the Human Journey
New Research Confirms 'Out Of Africa' Theory Of Human Evolution
এখন আমার মূল আলোচ্য বিষয়ে যাচ্ছি। গবেষণালব্ধ তথ্যের সাথে আমার নিজস্ব ধারণার আলোকেই পরবর্তি অংশ আসবে। তা পাঠক মাত্রই বুঝতে পারবেন, গবেষণার প্রয়োজনীয় রেফারেন্স দুইটি দিয়েছি, স্থানে স্থানে আরও দেব।
বর্তমানে মানব পূর্বপুরুষ নির্ধারণে ‘মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ’ কথাটি বহুল শুনা যায়। প্রথমেই বলে নেওয়া ভাল, এর সাথে বাইবেলের ঈভের কোন সম্পর্ক নেই। শুধু এভাবে নামকরণ করা হয়েছে। এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভকে মাতৃসূত্রে পৃথিবীর সকল নারীর পূর্বসুরী মনে করা হয়। মানে এই নারী থেকেই পৃথিবীর সকল নারী এসেছে। এই গবেষণার মূল হচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ। তা প্রজন্মের পরে প্রজন্ম অবিকৃত অবস্থায় থাকে। মানে দুই লক্ষ বছর আগের সেই মানব মাতার মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ অপরিবর্তিত অবস্থায় বর্তমান মাতাদের মাঝেও আছে। কিভাবে? আমরা জানি যেকোন কোষেই অনেক অনেক উপাদান রয়েছে, তার মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়া। যারা জীববিদ্যা পড়ে এসেছেন তারা স্মৃতি হাতড়ে দেখতে পারেন, পাঠ্য বইয়ে লেখা ছিল- মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাইজ বলা হয়। একটি ডিম্বানুতেও মাইটোকন্ড্রিয়া আছে। মাইটোকন্ড্রিয়াতে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ আছে। এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বংশ গতির ধারায় কোন ভূমিকা রাখে না, তবে অবিকৃত অবস্থায় অপত্য কোষে যায়। বংশগতির ধারায় ভূমিকা রাখে ক্রোমোসোমাল ডিএনএ যা নারী ও পুরুষ উভয়ের কাছ থেকেই আসে। নারীর ডিম্বাণুতে শুক্রাণু প্রবেশের পরে যে সকল পরিবর্তন ঘটে তা মাইটোকন্ড্রিয়ায় কোন পরিবর্তন সাধন করে। শুক্রাণুর নিউক্লিয়াস ২৩ টি ক্রোমোসোম বহন করে, ডিম্বানুর নিউকিয়াসের আরও ২৩ টি ক্রোমোসোমের সাথে মিলে ২৩ জোড়া কোমোসোম এই ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মাঝে ২২ জোড়াকেই অটোসোম বলে, এবং এই জোড়াগুলোর প্রত্যেকটি জোড়ায় ক্রোমোসোমদ্বয় পরস্পরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। শুধুমাত্র এক জোড়া ছাড়া, যাকে সেক্স ক্রোমোসোম বলে, আর এটাই নির্ধারণ করে ছেলে অথবা মেয়ে। তার উভয়ে সদৃশ(XX) হলে মেয়ে হয়, বিসদৃশ(XY) হলে ছেলে হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে নিউক্লিয়াসের ক্রোমোসোমাল ডিএনএ নারী-পুরুষ উভয়েরই জেনেটিক তথ্য বহন করে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পরিবর্তনের বাইরে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ মা থেকে অপরিবর্তিত অবস্থায় সন্তানের মাঝে যায়, ছেলে মেয়ে উভয়ের মাঝে যায়। ছেলে পর্যন্ত গিয়েই থেমে যায়। কিন্তু মেয়ে থেকে তার মেয়েতে, সেই মেয়ে থেকে তার মেয়েতে-> তার মেয়েতে-> তার মেয়েতে; এভাবেই চলতে থাকে। এভাবেই বর্তমান থেকে প্রাচীনের দিকে খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের সামনে এসেছে যে পৃথিবীর বর্তমান সকল মানবের এক মাতা ছিল পূর্বে। তবে এখানে জেনে রাখা দরকার, সেই আদিমাতার সমসাময়িক আরও মাতা ছিলেন, তাদের জেনারেশনের পথ থেমে গেছে বা তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। গবেষণায় এটাও পাওয়া গেছে যে আরও অনেক মানব প্রজাতি ছিল, তারা হারিয়ে গেছে; তাদের প্রাপ্ত জীবাশ্ম-কঙ্কাল থেকে এসেছে এসব তথ্য। আদিমাতাদের জেনারেশন থেমে যাওয়ার সহজ নিদর্শন হচ্ছে ছেলে, কারণ ছেলে পর্যন্ত মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ যেতে পারে, কিন্তু ছেলে থেকে ছেলের সন্তানের মাঝে যাবে না। সেই মাতার কোন মেয়ে না থেকে থাকলে তার জেনারেশন সেখানেই থেমে গেছে। এই দিকটা হল জেনেটিক বিলোপ। এর বাইরে প্রাকৃতিক কারণ থাকতেই পারে। লক্ষ বছরের গতি ধারায় সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে গিয়ে অন্যরা হারিয়ে গেছে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভকে তাই বলা হয় ম্যাট্রিলিনিয়াল মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর। নিচের ছবির মাধ্যমে হয়তো সহজ ধারণা পাওয়া যাবে।
Matrilineal Ancestor
মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেঃ
'Mitochondrial Eve': Mother of All Humans Lived 200,000 Years Ago
Mitochondrial Eve
এবার আমরা পরিচিত হই ‘ওয়াই ক্রোমোসোমাল এডাম’ এর সাথে। আমরা জানি যে পুরুষ নির্ধারণের ক্রোমোসোম হচ্ছে ওয়াই-ক্রোমোসোম। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের পুরুষদের ওয়াই ক্রোমোসোমাল ডিএনএ এর উপর গবেষণা করে জেনেটিস্ট স্পেন্সার ওয়েলস বলেন যে পৃথিবীর বর্তমান সব পুরুষরা পৈতৃক ভাবে একই পিতা থেকে আগত। তাই এই ডিএনএ-কে প্যাট্রিলিনিয়াল মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর বলা হয়।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত পড়তে-
Y-chromosomal Adam
ধারণা করা হয় মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ দুই লক্ষ বছর আগে বেঁচেছিল। যা ওয়াই ক্রোমোসোমাল এডামের চেয়ে পঞ্চাশ থেকে আশি হাজার বছর আগের। এখানেই অনেকেই হয়তো চমকে উঠেছেন, এটা কি করে সম্ভব। এমন হলে বংশগতির ধারা চলল কিভাবে? আপনারা খেয়াল করে থাকবেন এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ বা এডামের ব্যাপারে বলা হচ্ছে মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর। তার মানে দাঁড়ায় ঈভের আগেও আরও ঈভ ছিল। ঈভের সময়েও আরও ঈভ ছিল। ঠিক তেমনি এডামের আগেও আরও এডাম ছিল। মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভকে বলা হচ্ছে আধুনিক মানব জাতির এনসেস্টর। তেমনি ওয়াই ক্রোমোসোমাল এডাম আধুনিক মানব জাতির সব পুরুষের আদি পিতা। আরেকটু বিস্তারিতভাবে বলি।
মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ যখন বিবর্তন ধারায় আধুনিক মানব জাতির মাতা হয়ে গেছে, তখন তাদের সমসাময়িক পুরুষ বিবর্তনের ধারায় আধুনিক হয়নি। মানে তখনও তারা মানুষ হয়ে উঠেনি। তারা রূপান্তরের পথে ছিল। তখনও নারী-পুরুষে যৌনতা হয়েছে, সন্তান এসেছে, কিন্তু বিবর্তন ধারায় পুরুষ পিছিয়ে ছিল। এটা তাদের কাছে ধরা পড়েনি, ধরা পড়ার কথাও না। এটা ডিএনএ গবেষণায় এসেছে। একটু উদাহরণ দিয়ে বুঝাতে গেলে, মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভের সমসাময়িক পুরুষ তখনও লোমশ পশুর মত হয়তো ছিল, তাদের মুখাকৃতি, তাদের দাঁত, তাদের শরীর তখনও হয়তো বিবর্তন ধারার পূর্বপুরুষদের মত ছিল- মানে গরিলা ও শিম্পাঞ্জির কাছাকাছি প্রজাতির ছিল। কিন্তু তখনকার নারীরা এখনকার নারীদের মতই হয়ে গিয়েছিল। তাহলে দেখা যাচ্ছে বিবর্তনের ধারায় সভ্যতার পথে নারীরা এগিয়ে ছিল। নারীরা যখন পশু থেকে মানুষ হয়েছে, পুরুষরা তখনও পশু ছিল। এটা এখনও লক্ষ্য করা যায়, সমবয়সী ছেলে ও মেয়ের মাঝে মেয়েটির শরীর ছেলেটির শরীরের আগে বয়োপ্রাপ্তির পথে যায়। সমবয়সী একটি ছেলের আগে একটি মেয়ের মানসিকতার বিকাশ ঘটে। তারপর একসময় থেমে যায়। ছেলেটির দেরীতে আরম্ভ হয়, দেরীতেও শেষ হয়; মানে উভয়ই নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত চলে।
জেনেটিক থেকে এখন আমরা সমাজ বিজ্ঞানের দিকে আসি। এখানকার আলোচনা উপরের আলোচনার আঙ্গিকে আমার নিজস্ব ধ্যান-ধারণাকে রিপ্রেজেন্ট করবে।
জেনেটিক্যালি আমরা দেখেছি নারী পুরুষের চেয়ে আগে সভ্য হয়েছে। সামাজিক জীবনেও কিন্তু তারা পুরুষের আগেই আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। কিভাবে? সভ্যতার মূল ভিত্তি হল কৃষি। আর তার পত্তন নারীর হাতেই। পুরুষরা তখনও বন্য-শিকারী। অস্ত্র হাতে দল বেঁধে শিকার করত। নারীরা শিকারে যেত না, তারা ফলমূল, লতাপাতা সংগ্রহের কাজে থাকত। হ্যাঁ কন্ডিশনালী উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে, শিকারেও নারী সাহায্য করেছে, ফলমূল সংগ্রহে বা আবাসের কাজে পুরুষও সাহায্য করেছে। কিন্তু মোস্ট কমন কাজ ছিল পুরুষদের জন্য শিকার। নারীদের জন্য গৃহস্থালি। এখনও আফ্রিকার অরণ্যে বসবাসরত আদিবাসীদের জীবন ধারায় এমনটাই লক্ষ্য করা যায়। যারা ডক্যুমেন্টারী দেখেছেন তাদের নিশ্চই ধারণা আছে এ ব্যাপারে। পুরুষরা শিকার করে, আক্রমনকারী পশু বা অন্যদলের কাছ থেকে নিজেদের রক্ষা করে- যুদ্ধ করে। এভাবেই পুরুষরা যখন বাইরে শিকারে অথবা যুদ্ধে ব্যস্ত নারী দেখেছে খাবারের উচ্ছিষ্ট থেকে নতন ফসল ফলছে। তখন সেটাকে তারা এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকল পরিচর্যা করে, কষ্ট করে গহীন অরণ্য থেকে ফলমূল আনার বদলে তারা আবাসের পাশেই ফলমূল পেতে থাকল। এমনকি পুরুষরা শিকার করে যেসব প্রাণী ধরে আনত, সেই প্রাণীদের মাঝে হিংস্র নয় এমন প্রাণীও ছিল। যেমন বন্য গরু-ছাগল জাতীয় অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণী। আমরা আমাদের বাংলাদেশী গ্রামীন সমাজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখব যে গোবাদি পশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে নারীরাও ভূমিকা রাখেন। মাঠে ঘাস খাওয়ানো ছাড়া ঘরের বেশিরভাগ কাজই কৃষক ও গৃহস্থ বাড়িতে নারীকে করতে দেখেছি। গরুঘর পরিস্কার করা, গরুকে ভাতের মাড়-কুড়া খাওয়ানো ইত্যাদি কাজ নারীরাই করেন। ঠিক এভাবেই আমাদের প্রাচীন মাতারাও পশু পালন ও পরিচর্যার গোড়া পত্তন করেছিলেন। এটুকু আমরা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি।
তাই দেখা যাচ্ছে সভ্যতার পথে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিক নারীরাই শুরু করেছেন। পুরুষরা যখন সহিংস পথে, তখন তারা অহিংস পথের সন্ধানে ছিলেন। এই উভয় পথের মূলেই কিন্তু আমরা পাব কোমলতা ও অহিংসার চিন্তা-চেতনা। ফসলের পরিচর্যায়ও মমতা লাগে, শ্রম লাগে। যেন তেন করলে ফসল হয়তো ফলে কিন্তু ভাল ফলে না। তেমনি পশু পালনেও মমতা লাগে। আর আমি বাস্তবে অনেক নারীর সাথেই কথা বলে দেখেছি, তারা নিজেরা মাংস খান ঠিক আছে, কিন্তু চোখের সামনে পশু হত্যা সহ্য করতে পারেন না। আমরা ধরে নিতেই পারি আমাদের আদি মাতাদের মাঝেও ঠিক এমন চেতনা ছিল। আর এই চেতনাগুলোই আজ আমাদেরকে সভ্য করেছে। যাযাবর পশু-শিকারি মানুষ বসত গড়েছে। কৃষি কাজে লেগেছে। গ্রাম হয়েছে। নগর হয়েছে। দেশ হয়েছে।
সভ্যাতার দৌঁড়ে নারীরা যখন সভ্যতার গোড়া পত্তনে, তখন পুরুষও কিন্তু ভূমিকা রেখেছে। শিকার করে আমিষের চাহিদা মিটিয়েছে। বন্য প্রাণীর হাত থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। শত্রুদলের হাত থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। আদিবাসী জীবন ধারায় বিভিন্ন অঞ্চলে এটা খুব সাধারণ ছিল যে একদল আরেকদলকে আক্রমন করত। নারীদের ধরে নিয়ে যেত। পুরুষদের হত্যা করে যেত। পুরুষরাও এসব মাথায় রেখেই বর্তমান সমাজ ধারার পথে এগিয়ে গেল। যুদ্ধের প্রয়োজনে অস্ত্র বানানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। অস্ত্র শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। দলবেঁধে থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। শুধু তাই নয় বৃহত সুরক্ষার জন্য রাজনীতিরও প্রয়োজন অনুভব করল। এক দলের সাথে অন্যদলের সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজন অনুভব করল। যার মধ্যে ছিল পরস্পরের মাঝে উপহার আদান-প্রদান, বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন। পুরুষ এভাবেই চলার পথে নিজেদের মধ্যে আইন-কানুন ও প্রথার সৃষ্টি করল। শিকার জীবন থেকে পিছিয়ে পড়া নারী মহান দুটি ধারার সূচনা করলেও তারা ঘরেই রয়ে গেল। পুরুষ তখন বাইরের দিকেই আধিপত্য গড়তে থাকল। আর সেই আধিপত্যের মনোভাব এখনও পুরুষদের মাঝে চলমান। সবচেয়ে হাস্যকর বিষয়, আমি যখন কথায় কথায় বলছিলাম- নারীরা পুরুষদের চেয়ে আগে সভ্য হয়েছে, তখন কিছু পুরুষের রিএকশন ছিল- “এটা কি বলেন? তাহলে এটা আর কাউকে বলা যাবে না। ইজ্জতের প্রশ্ন মিয়া”। বিবর্তনের ধারায় হাজার বছরের আধিপত্য মানসিকতাকে কত বদলে দিয়েছে। অথচ না এই প্রসঙ্গ কোন লজ্জার, না কোন গৌরবের। না বিবর্তনের ধারায় কারও নিজের হাত আছে। বিবর্তন এখনও চলে, সময়ের সাথে সাথে আমাদের অনেক ফিজিক্যাল পরিবর্তন আসছে। ট্রান্সজেন্ডার সমস্যা হচ্ছে- কেউ ছেলে না মেয়ে বুঝার উপায় নেই, কেউ ছেলে হয়েও মেয়ে, কেউ মেয়ে হয়েও ছেলে। আমরা লম্বাকৃতি থেকে খর্ব হচ্ছি। আমাদের চুল আগে পাকছে। দাঁত আগে পড়ছে। চোখের দৃষ্টি কমছে। এভাবে সবগুলো পরিবর্তন বা রোগ বংশগত না হলেও অনেকগুলো বংশগত হয়ে পড়ছে। যদিও এটাকে ঠিক সেই বিবর্তনের কাতারে ফেলা যায় না। আমি মাত্র হালকা উদাহরণ দিলাম। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, তাই আগে থেকেই বলে নেই সেই বিবর্তনে লেগেছে লক্ষ লক্ষ বছর, পৃথিবীর জলবায়ুও অনেক বিষমভাবাপন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এসেছে। যা এখন স্ট্যাবল আছে বলা যায়। তাই আমরাও স্ট্যাবল আছি। তবে ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর উপর ভিত্তি করে চারপাশে তাকালে এখনও আমরা দেখতে পাব, আমাদের মাঝে অনেক অনেক পরিবর্তন রয়ে গেছে। আমরা সবাই ভেতরে-বাইরে সদৃশ নই।
এ বিষয়ে পরবর্তিতে কোন পর্ব লেখলে সেখানে বিবর্তনের ধারায় মানুষের জীবনে পোশাকের প্রভাব ও ধর্মবিশ্বাসের কথা লেখার চেষ্টা করব। আজ এদিকটাই থাক।
শেষ করার আগে, মানব প্রজাতির মধ্যে একমাত্র হোমো স্যাপিয়েন্সই বেঁচে আছে। এই প্রজাতি ছাড়াও আরও অনেক প্রজাতি ছিল। যাদের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। কঙ্কাল পাওয়া গেছে। তাদের বেঁচে থাকার সময়কালও নির্ধারণ হয়েছে। এমনকি দুই প্রজাতির একসাথে অবস্থানেরও বিষয়টি পাওয়া গেছে। যেমন, হোমো স্যাপিয়েন্স ও হোমো নিয়ান্ডার্থাল প্রজাতির একসাথে অবস্থানের প্রমান পাওয়া গেছে। কিন্তু অজানা কারণে তারা হারিয়ে গেছে। হতে পারে হোমো স্যাপ্যিয়েন্সদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি; অথবা কোন প্রাকৃতিক কারণ। অনেকে মনে করেন, বিভিন্ন প্রজাতির মানবদের মাঝেও ইন্টারসেক্স হয়েছিল। হয়তো হয়েছিল, কিন্তু তার কোন প্রমান এখনও মেলেনি। এ ব্যাপারে ডিএনএ জরীপ চালানো হয়েছিল সম্ভাব্য এলাকায়, নিয়ানডার্থাল ও স্যাপিয়েন্সদের মাঝে কোন আন্ত-যোগাযোগ ছিল কি না দেখতে, কিন্তু কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। নিয়ানডার্থাল পুরুষের চেহারা কদাকার ছিল, তাই স্যাপিয়েন্স নারীর পছন্দ না হবারই কথা। ঠিক এমনই ভাবে বিপরীতেও হয়েছে হয়তো, স্যাপিয়েন্স পুরুষ সুদর্শন হলেও, নিয়ানডার্থাল নারী কুরূপা ছিল। অথবা ইন্টারসেক্স-জেনারেশনের অভিযোজন ক্ষমতা ছিল না যে পরবর্তি প্রাকৃতিক দূর্যোগের চড়াই-উতরাই পার হবে। কারণ একমাত্র বিশুদ্ধ স্যাপিয়েন্সরাই বেঁচে আছে। অন্যদিকে চায়নিজরা নিজেদের আলাদা জেনারেশন মনে করে, তারা নিজেদের হোমো ইরেক্টাস মনে করে, সেখানে পাঠ্য বইয়ে তাই পড়ানো হয়। এ নিয়ে বিতর্ক আছে, গবেষণায় দেখা গেছে, বাহ্যিক ব্যবধান থাকলেও এরাও হোমো স্যাপিয়েন্স। প্রাপ্ত জীবাশ্ম ও কঙ্কালের উপর ভিত্তি করে স্পেশ্যালিস্ট চিত্রকরের আঁকা কিছু ছবি দিচ্ছে, ছবিগুলো নেট থেকে নিয়েছি।
প্রাপ্ত কঙ্কাল থেকে স্পেশ্যালিস্ট চিত্রকরের আঁকা (হব্বিট বা হোমো ফ্লোরেসিয়েনসিস)
হোমো নিয়ানডার্থাল

হোমো হাইডেলবারজেন্সিস

Homo erectus

Homo ergaster

Homo rudolfensis
Homo sapiens
কৃতজ্ঞতা: মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ ও ক্রোমোসোমাল এডাম বিষয়ে সরবরাহকৃত লিংক ছাড়াও তথ্য পেয়েছি ব্লগার বেলের কাঁটা, যুদ্ধদেব, হোরাস ও ঋণগ্রস্থের আলোচনা থেকে। আর এই বিষয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ধন্যবাদ জানাই তথ্যপথের পিপাসু ব্লগার রাতের আকাশকে, ইউটিউব লিংক ও জেনোগ্রাফিক প্রজেক্টের লিংক তিনিই আমাকে পাঠিয়েছিলেন।
লেখক সজল শর্মা
- সজল শর্মা -এর ব্লগ
- ৩২ টি মন্তব্য
- ১৮ জুন ২০১১, ১৩:৪৬
- প্রবন্ধ
প্রিন্ট করুন
- ৩২ টি মন্তব্য
-
খায়রুল...।১৮ জুন ২০১১, ১৬:২৮
আপনার বিষয় নির্বাচন গুলো চমৎকার, আর আপনার লেখার মধ্যে ভিন্নতা আছে। সব সময় এই গল্প, কবিতা পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে বোরিং হয়ে যাই। এমন সুন্দর তথ্যসম্মৃদ্ধ পোস্ট এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
-
আসফিয়া সিরাত১৮ জুন ২০১১, ১৭:১০
অনেক ধৈর্য নিয়ে পড়তে শুরু করেছিলাম(অনেক বড় তো)। এখন বুঝতেছি না পড়লে অনেক ইম্পরট্যান্ট একটা বিষয় জানা থেকে বাদ থাকতাম। ভালো থাকবেন আর আমাদের আরও সুন্দর ও তথ্যবহুল পোস্ট উপহার দিবেন। -
মাসুদ মুরশেদ১৮ জুন ২০১১, ১৯:৪৩
চমৎকার লেখাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
কৃষিকাজ এবং সভ্যতার শুরু যে নারীর হাতেই তা অনেক শুনেছি, কিন্তু তার বিবর্তন ও বংশগতি সংক্রান্ত ব্যখ্যাটা প্রথম পড়লাম।
সাবলীল ও সহজবোধ্য বিজ্ঞান রচনার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
মানুষের ভাষা, পোশাক, ধর্ম, সমাজ বিবর্তন গুলো আলোচনা করবেন-আশা রাখি। -
রাখী১৯ জুন ২০১১, ০১:২৪
দারুন তথ্যমুলক লেখা।ধন্যবাদ।প্রিয়তে নিলাম।
বিবর্তনের ধাপগুলো যা আপনি বর্ণনা করেছেন তা যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে।
কৃষিভিত্তিক কাজের গোড়াপত্তন ঘটে নারীর হাতেই।কিন্তু সম্পত্তির উত্তরাধীকারের ধারনার উৎপত্তি থেকেই নারী পরাজয়ের সূচনা [এঙ্গেলস[।
আপনি নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য-যা বলতে চেয়েছেন তা নিয়ে আমি কিছুটা সন্দিহান।বিশেষ করে প্রকৃতিতে সমকামী, রুপান্তরকামী ও উভকামীর কেস স্টাডিগুলো অনেক প্রশ্ন করার স্থান রেখে গিয়েছে।
তাই লিঙ্গ নির্ধারনের ক্ষেত্রে আমাদের ক্রোমোসোম ব্যবহার কতটা যুক্তিযুক্ত তা প্রশ্নবিদ্ধ!
আপনার পরবর্তী পোষ্টের অপেক্ষায় রইলাম। -
কাজী মাহবুব হাসান১৯ জুন ২০১১, ১০:৫০
দুটো শব্দ, সেক্স এবং জেন্ডার আলাদা। কোন প্রানীর সেক্স বা লিঙ্গ কি হবে তা নিয়ন্ত্রন করে তার সেক্স ক্রোমোজোম, আর জেন্ডার একটা সামাজিক কন্সট্রাক্ট। সামাজিক ভাবে জেন্ডার আরোপিত হয়।
ট্রান্সজেন্ডার ব্যপারটাও কিন্ত সামাজিকভাবে আরোপিত জেন্ডার আইডেন্টিটির সাথে যখন অ্যাসাইন করা সেক্স এর সংঘাত হয়। মানুষের ক্ষেত্রে যেভাবে ট্রান্সজেন্ডার ব্যবহৃত হয় প্রানীজগতে সেভাবে শব্দটার ব্যবহার নিয়ে আমার মনে হয় বেশ কিছু সন্দেহ আছে। প্রাণীজগতে সমকামী, রুপান্তরকামী ও উভকামী আচরন যা আছে তার বিবর্তন এবং অভিযোজনীয় কৌশলের আলোকে ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব।
যৌন প্রজননের উৎপত্তি একটি বিবর্তনীয় কৌশল, একটা হাইপোথেসিস উপকারী মিউটেশন সহ জীনগুলোর আদান প্রদান করার একটি উপায়, যা পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে প্রানীকে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করে। এছাড়া রেড কু্ইন হাইপোথেসিস তো আছে। -
রশীদ জামীল১৯ জুন ২০১১, ০১:৩১
দারুন তথ্যমূলক পোষ্ট। ধন্যবাদ সজলদা।
এর আগেও কি এটা পড়েছি? অন্য ঠিকানায়
একটা কথা বলি দাদা?
জানি আপনার পোষ্টের প্রয়জনেই ছবিগুলো। তবুও বলি।
ছবি গুলো কি না দিলেই হতোনা। বিব্রতকর অস্বস্থিতে ফেলে দিচ্ছে।
কিছু মনে করলেন না তো দাদা?
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক