শনিবার ৩০ আগস্ট ২০১৪, ১৫ ভাদ্র, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


ওয়াহ্যাবি মতবাদ কি ও কারা ?

আমাদের দেশে প্রায় শোনা যায় ওয়াহ্যাবি(ওয়াহাবি) মুসলমানের কথা।আমাদের দেশের বিশেষ এক শ্রেণীর কওমী আলেমদেরকে এক শ্রেণীর আলেম ও তাদের অনুসারী সাধারন মুসলমানরা ওয়াহাবী বলে।আর এক শ্রেনীর আলেম নিজেদেরকে সুন্নি বলে পরিচয় দেয়।প্রথমে আমরা জানার চেষটা করি সুন্নি কথাটার অর্থ কি।সাধারন ভাবে বলতে গেলে যারা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিপূর্ণ সুন্নত মেনে চলেন তারাই সুন্নি।

আসল ওয়াহাবি কে এবং কারা?
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্যাব নজদী তেরশ শতাব্দিতে আরবের নজদ নামক প্রদেশে আত্তপ্রকাশ করে।সে ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী ছিল ।সে আহলুসসুন্নাত ওয়াল জামাতের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকত এবং তার নিজ আকিদা ছাড়া অন্য আকিদার মুসলমানদের কাফের হিসাবে আখ্যায়িত করত। ভিন্ন আকিদার মুসলমানদের মাল ধন সম্পদ জোর করে ছিনিয়ে নেওয়াকে হালাল ও তাদের হত্যা করাকে পূণ্যের কাজ বলে ফতো্যা দিত।এই ওয়াহাবীরা তৎকালীন আমলে দলে এত ভারী ছিল যে তাদের হাতে হাজার হাজার খাটি মুসলমান শহিদ হয়েছিল।তাদের অত্যাচারে তৎকালীন সময়ে মক্কা মদিনার অনেক মুসলমান পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।সেই থেকে আরব দেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে ওয়াহাবী ও তার অনুসারীদের কঠোর সমালোচনা করা হয় ও ঘৃনা চোখে দেখা হয়।
ওয়াহাবীদের আকিদা বা মুলনীতি।
১/ওয়াহাবীরা এই আকিদা পোষন করে যে নবী রসুল গনের জীবন শুধু মাত্র ইহকাল পর্যন্ত সীমিত মৃত্যুর পর ওনারা অন্যান্য সাধারন মুসলমানদের মত কবরে বিলীন হয়ে যায়।(নাউযুবিল্লাহ)
তারা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলে যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।
২/ওরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজেদের সমকক্ষ মনে করে।নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুধু মাত্র তাবলীগের কাজে পাঠানো হয়েছে।(নাউযুবিল্লাহ)
৩/নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক জিয়ারত করাকে বিদাআত ও হারাম বলে মনে করে।
৪/ এরা রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গায়েবী সালাম আস্সালাতু আস্সালামু আলাইকা বলা কে শিরক ও হারাম মনে করে।
৫/এরা মনে করে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কেবল শরিয়তী ইলম জানা ছিল বাতেনী ইলম জানতেন না।নাউযুবিল্লাহ।
৬/আত্তসুদ্ধি, সুফিয়াকেরামদের নিয়ম নীতি ,মুরাকাবা, পীর মুরিদিকে নাজায়েজ ও হারাম বলে।
৭/এরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরুদ সালাম দালায়েলুল, কাছিদাবুরদা পাঠানো অপছন্দনীয় কাজ বলে মনে করে।
৮/এরা নবীগন ও আউলিয়াগনের জীবন বৃত্তান্ত আলোচনাকে খারাপ মনে করে।
৯/ওয়াহাবীরা নিজেদের আকিদা ছাড়া অন্য আকিদার লোকদের কাফের বলে সম্বোধন করে।
১০/তারা অন্য আকিদার মুসলমানদের মাল সম্পদকে গনিমতের মাল মনে করে এবং তাদের ধন সম্পদ কেড়ে নেওয়াকে হালাল মনে করে।
আমাদের দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার দুটি ধারা আছে একটি আলিয়া আরেকটি কওমী।আলিয়া মাদ্রাসা সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানে পরিচালিত হয়।ওখানে সরকার নির্দেশিত সিলেবাস অনুযায়ি পড়ানো হয়।আর কওমি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ জনগনের সহযোগিতায় পরিচালিত তাই এই মাদ্রাসাগুলি নিজস্ব সিলাবাসে পাঠদান করে।( মাদ্রাসা শিক্ষা দুই ধারা বিভক্ত হওয়ার ইতিহাস আছে তা ইনশাআল্লাহ অন্য সময় আলোচনা করব)।আমাদের দেশের এক শ্রেণীর আলেম এই কওমী আলেমদেরকে ওয়াহাবী বলে সম্বোধন করে।কিন্ত বাস্তবে দেখা যায় এই কওমী আলেমরা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সুন্নত পালন করেন।ওয়াহাবী আকিদার একটি আকিদাও কওমী আলেমদের মাঝে নাই।রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসার ব্যাপারে এবং উনার সুন্নত পরিপূর্ণ ভাবে পালনের ব্যাপারে কওমী আলেমগন সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী।উনারা শুধু বাহ্যিক গত (পোষাক ,দাড়ি, কথা-বার্তা ইত্যাদি) সুন্নত নয় আভ্যন্তরীন (খাওয়া দাওয়া, ঘর-সংসার, তাহাজ্জুদের নামায ইত্যাদি) সুন্নতের ব্যাপারেও খুবই যত্নবান।কওমী আলেমগন বেশির ভাগই খুব সাধারন জীবন যাপন করেন।তারা রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন ব্যাপার নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন না।ঠিক যতটুকু হাদিসে পাকে আছে ততটুকুই পালন করেন।নিজ হতে কোন কিছু বাড়ানোকে বিদাআত ও কোন কিছু কমানোকে হারাম মনে করেন।
{সুত্রঃ প্রসংগঃওয়াহ্যাবী কারা/ লেখকঃহযরত আল্লামা শাঃ আহমদ শফী (দাঃ বাঃ)/ মাসিক মইনুল ইসলাম/ নভেম্বর- ২০০৮ }
১২ টি মন্তব্য
sharmabangla সজল শর্মা১৪ আগস্ট ২০১০, ১৮:৪৩
'গনিমত' রীতি ছিল প্রাচীন কালের সবচেয়ে জঘন্য এক রীতি। এই রীতির বদলেই যুদ্ধের পরে ধন-সম্পদ লুট হত আর নারীদের উপর নেমে আসত ধর্ষণের বন্যা।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই তো সুন্নী, ওয়াহাবী কওমের যে বৈশিষ্ট্য উপরে আলোচনা করলেন তা দেশের কোন আস্তিক মুসলমানের মধ্যেই নেই। তাহলে কওমী মাদ্রাসায় আসবে কিভাবে।
dubin দূরবীণ১৪ আগস্ট ২০১০, ১৯:৫৩
সজল দা, কেমন আছেন? ইসলামের ব্যাপারে আপনার আগ্রহও কৌতুহল দেখে আশ্চর্য বোধ করছি। এতটুকু বুঝতে কোন অসুবিধা হচ্ছেনা যে আপনি ইসলামের ব্যপারে অনেক খোজ খবর রাখেন। আপনি গনিমতের ব্যপারটা কোথায় শুনেছেন বা পড়েছেন তা আমি জানি না, তবে আমার বিশ্বাস গনিমতের ব্যপারটা আপনার কাছে এখনো পুরোপুরি ক্লিয়ার নয়, এটা একটু দুঃখ জনক। সময় সুযোগ পেলে সঠিক ইসলামিক ইতিহাসবিদ বা আলেমদের কাছ থেকে অথবা তাদের লেখা কোন গ্রন্থ থেকে আরো বিস্তারিত জেনে নিবেন। গনিমত প্রাচিন কাল থেকে আজ অবধি ইসলামে বৈধ, আজো এর প্রচলন পৃথিবীতে দেখা যায়। এটা শুধু মুসলমানদের মাঝে নয় বরং সকল ধর্মালম্বী বিজয়ীরা গনিমতের সুফল ভোগ করে, হয়তো বা সেখানে নাম হিসেবে 'গনিমতের' ব্যবহার হয় না।

একটা কথা সব সময় মনে রাখবেন, যদি ইসলামকে জানতে চান তাহলে কোরআন ও সঠিক হাদিসের অনুসন্ধান করুন; মুসলমানদের দেখে ইসলামকে জানার চেষ্টা করাটা ভুল। কারন অন্যান্য ধর্মালম্বীদের মধ্যে যেমন অনেকে আছে যারা নিজের ধর্মের বেসিক জিনিস গুলা জানে না, তেমনি আপনি হাজারটা মুসলমান পাবেন যারা ইসলাম সম্পর্কে নিজেরাই ভালো করে জানে না। এদের কর্মকান্ডের জন্য ইসলাম নয় বরং তারা নিজেরাই দায়ী।

কাওমী মাদ্রাসা সম্পর্কে এই ব্লগের শেষের দিকটায় কিছু আলোচনা আছে তা আরেক বার দেখে নিবেন। কাওমী ও সুন্নীতে কোন বিরোধ নাই, বিরোধ নিয়ে আসার চেষ্টা করে কিছু সুন্নী নামধারী আলেম। যদি বিরোধ থাকতো বাংলাদেশে বিখ্যাত কিছু কাওমী মাদ্রাসার অস্তিত্বই থাকতো না। নিচে সাদি ভাই এর বক্তব্যের সাথে আমিও একমত।

পরিশেষে আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি, এবং রমজানের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
opo_debota অপদেবতা১৪ আগস্ট ২০১০, ১৯:১০
সেলাম ,
ধার্মিক পোস্ট দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

তবে একটু ভুল করেছেন । এখানে মুসলিমরা আপনার পোষ্ট পড়ার চেয়ে অমুসলিমরা আপনার পোষ্ট বেশি পড়বে এবং আজে বাজে মন্তব্য করবে যা আপনার বিষয় বস্তুর সাথে সম্পর্কযুক্ত না।

বর্তমান অবস্থার পরিপেক্ষিতে বলা যায় , আমাদের চেয়ে অন্য ধর্মর লোকরাই আমাদের ধর্ম সম্পর্কে বেশি জানে । তাদের আজে বাজে মন্তব্য এবং আপনার পোস্টে অস্থিতিশীলতা আনতে পারে ।


আপনার পোস্ট সম্পর্কে কমেন্ট করলাম না কারণ জ্ঞান সীমিত ।
sadi সাদি১৪ আগস্ট ২০১০, ১৯:২৯
আমাদের দেশের এক শ্রেণীর আলেম এই কওমী আলেমদেরকে ওয়াহাবী বলে সম্বোধন করে।কিন্ত বাস্তবে দেখা যায় এই কওমী আলেমরা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সুন্নত পালন করেন।ওয়াহাবী আকিদার একটি আকিদাও কওমী আলেমদের মাঝে নাই।রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসার ব্যাপারে এবং উনার সুন্নত পরিপূর্ণ ভাবে পালনের ব্যাপারে কওমী আলেমগন সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী।
১০০% সত্য।

মূলত কউমী মাদ্রাসার আলেমদেরকে কিছু নামধারী সুন্নী আলেম যারা সুন্নাত পালনের ধারে কাছে নেই তারাই বিদ্বেষমূলক ভাবে ওয়াহাবী বলে থাকে।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে কউমী আলেমরাই অগ্রগামী ছিল। দারুল উলুম দেওবন্দের অনুসারী উলামায়ে কেরাম ইংরেজদের হাতে অনেক নিগৃহীত হয়েছেন। হাজার হাজার আলেমকে হত্যা করা হয়েছিল। ইংরেজদের পা চাটা কিছু আলেম নামধারী ব্যক্তি বিশেষ কর্তৃক কউমী আলেমদের গায়ে ওয়াহাবী খেতাব জোটে।
dubin দূরবীণ১৪ আগস্ট ২০১০, ২০:৪৩
বড়দাদা, এই ব্লগের প্রথম পাঁচটি লাইন ছাড়া বাকী অংশ টুকু আপনি সংগ্রহ করেছেন হযরত আল্লামা শাঃ আহমদ শফী (দাঃ বাঃ) এর লিখিত ওয়াহ্যাবী কারা নামক মাসিক মইনুল ইসলামের একটি আর্টিকেল থেকে।

আমিও আপনার মত একজন সুন্নী এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আমার প্রিয় নবীর (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নত অনুসরনের যথা সাধ্য চেষ্টা করি। মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্যাব নজদী তেরশ শতাব্দিতে আরবের নজদ নামক প্রদেশে আত্তপ্রকাশ করেন, এই নজদ হচ্ছে বর্তমানে সৌদি আরবের একটি শহরের নাম। সে হিসেবে আমাদের দেশের কিছু সুন্নী (!) আলেম (আসলে তারা আলেম কিনা এটা বিবেচনার বিষয়) সৌদি আরবকে ওয়াহাবীদের দেশ নামে আখ্যায়িত করে।

যেহেতু আমি কর্মসুত্রে সৌদি আরবে আছি তাই ওয়াহাবীদের খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। কেউ মানুক বা না মানুক ওয়াহাবীদের ব্যপারে আপনার উল্লেখিত তথ্য গুলা শতকরা ৯৫ ভাগ অসত্য এবং বিভ্রান্তি মুলক। উল্লেখ্য নবীর (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সঠিক সুন্নত অনুসরনে ওয়াহাবীদের আমার কাছে সুন্নীদের থেকে বেশি অগ্রনি মনে হয়েছে। আপনি প্রথম পয়েন্টে লিখেছেন, ' তারা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলে যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব', আমার প্রশ্ন হল আপনি কি নিজ কানে শুনেছেন। আমিতো আজ পর্যন্ত শুনলাম না। আপনার তিন নম্বর পয়েন্টের সাক্ষীতো আমি নিজেই, আমি কর্ম সূত্রে মদীনায় প্রায় এক বছর অবস্থান করেছি এবং প্রায় প্রতিদিন নবীজির (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রওজা মুবারক জেয়ারত করেছি। কোন ওয়াহাবী আমাকে কেন আমার মত কাউকেই কেউ বাধা দেয়নি। ওয়াহাবীরা এটাও জানে আমি সুন্নী এবং আজীবন আমি রাসুলের (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নতকে আকড়ে থাকবো, কই ধন সম্পদ তো দূরে থাক আমার ১ রিয়ালও তো কোন ওয়াহাবী কেড়ে নেয় নাই। কোথা থেকে যে এইসব তথ্য আসে বুঝিনা। মুরাকাবা, মাজার পূজা, মিলাদ এগুলা ছাড়া সুন্নীদের সাথে ওয়াহাবীদের কোন পার্থক্য নাই।

একটা কথা মনে রাখবেন মুসলমানদের শত্রুরা সব সময় ওত পেতে থাকে কিভাবে মুসলমানদের ক্ষতি করা যায়। মুসলমানদের মধ্যে বিদ্বেস ছড়ানোই হচ্ছে ওদের প্রধান মিশন। কারন মুসলমানরা টুকরা টুকরা হয়ে গেলে ওদের বেশ লাভ হয়। কিন্তু ওরা ওদের ষড়যন্ত্রে কখনোই সফল হবেনা, একটু আধু বিশৃংখলা সৃষ্টি করা ছাড়া। হক পথের আলেম সে সুন্নী বা ওয়াহাবী যাই হোক তাদের মাঝে ভেদা ভেদ নাই। আমাদের দেশের সুন্নী আলেমরা হজ্জ করতে যান, পরিচয় পেলে ওয়াহাবীরা খাতির যত্নের কমতি করে না। যে সব সুন্নী আলেমের মাথায় কিছু নাই, তাদের মাথা থেকে এই সব আজগুবি তথ্য গুলা বের হয়, খালি কলস বাজে বেশি। তাদের এড়ায় চলা আমাদের মত নবীর (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নতের অনুসারীদের জন্যে ওয়াজিব।
fakir007 ফকির আব্দুল মালেক১৪ আগস্ট ২০১০, ২১:১৭
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্যাব নজদী তেরশ শতাব্দিতে আরবের নজদ নামক প্রদেশে আত্তপ্রকাশ করে।সে ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী ছিল ।সে আহলুসসুন্নাত ওয়াল জামাতের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকত এবং তার নিজ আকিদা ছাড়া অন্য আকিদার মুসলমানদের কাফের হিসাবে আখ্যায়িত করত। ভিন্ন আকিদার মুসলমানদের মাল ধন সম্পদ জোর করে ছিনিয়ে নেওয়াকে হালাল ও তাদের হত্যা করাকে পূণ্যের কাজ বলে ফতো্যা দিত।এই ওয়াহাবীরা তৎকালীন আমলে দলে এত ভারী ছিল যে তাদের হাতে হাজার হাজার খাটি মুসলমান শহিদ হয়েছিল।তাদের অত্যাচারে তৎকালীন সময়ে মক্কা মদিনার অনেক মুসলমান পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।সেই থেকে আরব দেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে ওয়াহাবী ও তার অনুসারীদের কঠোর সমালোচনা করা হয় ও ঘৃনা চোখে দেখা হয়।


উপরের অংশটুকু আপনি যেখান থেকেই কোড করেন না কেন, ইতিহাস তা ভূল বলে।

মুসলমানদের ইতিহাসের একটি পর্যায়ে শরীক, বিদআতে জর্জরিত হয়ে পড়ে। কবরপূজা, ভক্তির অতিশয্যে রাছুল (সা শানে এমন সব গুনবালি আরোপ করতে থাকে যা কোরআন হাদিছের সমর্থন ছিল না। তারা মিলাদ মাহফিল নামে এক বিদআত আবিষ্কার করে নেন যা নবীজির মৃত্যু প্রায় ৪ শত বৎসর পর বাগদাদ হতে শুরু হয়। মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্যাব এক সংস্কারবাদী নেতার নাম যিনি করবপূজা সহ যেসব বিদআত শিয়া বিশ্বাস হতে আগত ও সূফীবাদের নামে প্রচলিত হয়ে যায় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি চার ঈমামের নামে যে কাবা শরীফে চারটি ভাগকে বাদ দিয়ে এক ঈমামের নেতৃত্বে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা নেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে সৌদিআরব হতে শিরক বিদআত দুর হলেও এই উপমহাদেশে এখনও নানা ধরনের বিদআত চালু রয়ে গেছে। কুরআন হাদীছ এখন আর আলেম নামধারী একশ্রেনীর হুজুরের কাছে আবদ্ধ নয় যে তারা যা ব্যাখ্যা করবেন তাই মেনে নিতে হবে। এমন কি বাংলাভাষায় কুরআনের তফসীর সহ সহীহ হাদীছগুলোর অনুবাদ পাওয়া যায়। এখন আধুনিক ধারায় শিক্ষিত লোকও কুরআন হাদীছ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

সুতরাং কুরআন হাদীছ সহ ধর্মীয় কোন লিখা পোষ্ট দেয়ার আগে কুরআন হাদীছের রেফারেন্স দিতে ভূল করবেন না। কেবল মাত্র অমুক হুজুর বলেছেন, অমুক পীর বলেছেন এসব বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।
borodada বড়দাদা১৪ আগস্ট ২০১০, ২৩:১৮
ওহাবের আবির্ভাবের সময়ে ব্রিটিশরা হিজাজে সরাসরি নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছিল না, কারন ফ্রেন্চ ও জার্মান দুই জনেরই নজর ছিল হিজাজের দিকে. ফ্রেন্চরা দখলে ব্যার্থ হলে ব্রিটিশরাও আর সরাসরি আগায়নি. আগালেই ফ্রেন্চ ও জার্মানদের সাথে কনফ্লিক্টে যেতে হত ফলে রাজনীতি আরো জটিল আকার ধারন করত. সেজন্য ওই এলাকা দখলের জন্য তাদের দরকার ছিল এমন একজন লোকের যে মুসলমান নামধারী ও সরাসরি খিলাফাতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে. এতে ব্রিটিশরা স্রেফ অস্ত্র ও রসদ সাহায্য দিয়েই হিজাজ দখল করতে পারবে.

ব্রিটিশ কমনওয়েলথ মন্ত্রনালয় থেকে তখন মুসলিম খিলাফাতের বিরুদ্ধে প্রায় শতবর্ষব্যাপী প্লান অনুযায়ী প্রচুর এজেন্ট মুসলমানদের মধ্যে প্রেরন করা হয়েছিল. তাদেরই একজন ছিল ব্রিটিশ এজেন্ট হ্যামফার, তার কর্মক্ষেত্র ছিল হিজাজ এবং উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের মধ্যেকার ফাটলগুলি বের করে তা ব্রিটিশদের জন্য কাজে লাগানো.

এই ব্রিটিশ এজেন্ট হ্যামফারেরেই আবিষ্কার এবং ফিনিশড প্রডাক্ট হল নাজদের ওয়াহাব. এবং সেই ওহাবী মতাবলম্বীরাই আজকে সৌউদ বংশ প্রতিষ্ঠা করে রাসূল সাঃ এর পবিত্র জন্মস্হান ও খিলাফাতের জন্মস্হানকে কব্জা করে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠা করেছে।
বিঃদ্রঃ আমি যার রেফারেন্স দিয়েছি তিনি চট্টগ্রামস্থ হাট হাজারি মাদ্রাসার মুহতামিম(প্রধান অধ্যক্ষ্) এবং সারা বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসার বোর্ডের মহাপরিচালক।আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি এখনও জীবিত আছেন।আপনি অনুগ্রহ করে ওনার কাছে যেয়ে আপনার পিপাসু মনের তৃষ্না মেটাবেন।আশা করি উনি আপনাকে হতাশ করবেন না। আপনার মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ।ভাল থাকুন।
mazbah মেজবাহ‍‍‍১৪ আগস্ট ২০১০, ২৩:১৫
দূরবীন ভাই আর মালেক ভাইয়ের সাথে একমত। ইসলামের ব্যপারে কিছু বলার আগে ভেবে ‍চিন্তে বলা উচিত। নাহলে কিন্তু গুনাহর ভাগীদার হতে হবে। আমিও অনেকদিন সেৌদি আরব ছিলাম। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি যা জানি তা হলো , সেৌদি আরবের বেশীর ভাগ মুসলমান হলেন ওয়াহাবী (অন্য অর্থে সুন্নী) আর কিছু সংখ্যক আছে শিয়া। বস্তুত, সুন্নী, শিয়া কিংবা ওয়াহাবী মানুষেরই সৃষ্টি। আসলে যখন শিয়ারা তাদের কিছু মাজহাব নিয়ে তর্ক করে তখন বাকীরা বলতে বাধ্য হয় আমরা সুন্নী। শিয়া, সুন্নী বিতর্কে যাচ্ছি না। আসি ওয়াহাবী প্রসংগে। এক সুদানীকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আসলে ওয়াহাবী কে বা কারা? সে আমাকে সহজভাবে উত্তর যা দিয়েছে তা হলো এই, আবদুল ওয়াহাব ৪ মাজহাব নিয়ে গবেষণা করে প্রতিটি মাজহাবের ‍‍যেৌক্তিক বিষয়গুলো গ্রহণ বা বর্জন করেছেন ব্যাখ্যা সহ (অর্থাৎ কেন গ্রহণ করলাম বা কেন বর্জন করলাম) যা সেৌদি আরবে ব্যপক সমাদৃত হয়। কালক্রমে বেশীরভাগ মুসলমান সেটাই গ্রহণ করে। এ কারণে বলা হয় সেৌদি আরবের মুসলমানেরা ওয়াহাবী।(আমি ভুল বললে শুধরে দেবেন)। কাজেই, বড়দাদা যা বলেছেন তা গ্রহণযোগ্য নয় আমার কাছে।
(বি: দ্র: অমুসলিমরা ইসলাম বিষয়ে কিছু না বললেই বোধহয় ভালো হয়। কী দরকার খামাখা?)
borodada বড়দাদা১৪ আগস্ট ২০১০, ২৩:৪১
অমুসলিম বলতে আপনি কাকে বুঝাতে চেয়েছেন জানিনা।আমার নিক বড়দাদা হলেও আমি একজন একনিষ্ঠ মুসলমান।আমি এই পোস্টটি দিয়েছি কোন বির্তক সৃষ্টি করার জন্য নয়।একটি বির্তকিত বিষয় যা এক শ্রেণীর নীরহ আলেম সমাজকে কিছু আলেমধারী লোক ওয়াহাবী বলে প্রতিনিয়ত কটাক্ষ করার কারনে নিজের ভি্তর থেকে তাগাদা অনুভব করেছি কোথাও এ ব্যাপারে কিছু বলার, তাই এই প্রচেষ্টা।
mazbah মেজবাহ‍‍‍১৫ আগস্ট ২০১০, ১২:২২
আপনাকে বলিনি। আপনার‍ পোস্ট আর আগের মন্তব্যে মনে হয়েছে আপনি ওয়াহাবী বিরোধী। কিন্তু এখন আপনি তাগাদা অনুভব করেছেন, যে কিছু নীরিহ আলেমকে আরেক শ্রেণীর আলেম ওয়াহাবী বলে কটাক্ষ করে। কোনটা ধরে নেব?
shravanakash শ্রাবণ আকাশ১৪ আগস্ট ২০১০, ২৩:৫৬
প্রচলিত ধর্মগুলো শুধু বিশ্বাসের ব্যাপার। এখানে কোনো যুক্তিতর্ক খাটে না। যখন কোনো উত্তর পাই না তখন বলি - বিশ্বাসের ব্যাপার। সব জায়গাতেই আছে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ। কিন্তু মূল কিন্তু একই। সেটা আল্লা বলেন ভগবান বলেন গড বলেন বা যে যেভাবেই বলেন না কেন। তবে ধর্মে ধর্মে মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদের মূল হলো অন্য ধর্ম এমন কি নিজ ধর্ম সম্পর্কেও অজ্ঞতা।
প্রতিটা মানুষ তার স্থান কাল পাত্র ভেদে শ্রুতি, স্মৃতি আর লোকাচারমূলক আচার-অনুষ্ঠান মেনে যার যার ধর্ম পালন করেন এবং সেটাকেই সর্বোচ্চ বলে মনে করেন। এখানেই সমস্যা। অজ্ঞতাও বলতে পারি।
কিন্তু কেউ কেউ তো ঠিকই সব জানতে চান। শুধু বিশ্বাসের উপর ভর না করে জেনে বুঝে নিতে চান ধর্ম আসলে কি? ধর্ম নিয়ে কথা বললেই আমরা আগে সে কোন ধর্মের লোক - সেটা জানতে চাই কেন? ধর্ম কি শুধু জন্মসূত্রে পাওয়া? জেনে বুঝে নিজের ধর্ম বেছে নেয়ার স্বাধীনতা কি মানুষের নেই? নাকি আলোচনা করার অধিকারও নেই? আলোচনা না হলে আমাদের মনের অন্ধকার দূর হবে কি করে? একে অন্যকে জানবো কি করে? না জানলে মানুষে মানুষে ভেদাভেদই বা দূর হবে কি করে?

আমি নিজে মন্দির-মসজিদ-গীর্জায় গিয়ে ধর্ম পালন করি না। এখানে যাওয়াটাকে আমি অনেকটা উৎসবের মত মনে করি। আমি একেবারে নাস্তিকও ন, কেননা চোখ বুঝলে একজনকে অনুভব করি। কিন্তু তার কোনো রূপ প্রকাশ করতে আমি ব্যর্থ। অনেক ঘেঁটে দেখেছি - পৃথিবীতে কোনো মানুষ বা ধর্মগ্রন্থ এই রূপ প্রকাশও করতে পারেন নাই। কিন্তু যে যার মত করে অনুভব করেন। এই স্বাধীনতাটুকু মানুষের থাকতে পারে না? কারো ধর্ম পালনের সাথে যদি আমার ধর্ম পালন না মেলে তাই বলে সে ভুল, এমন কথা তো কোথাও নেই।
সবশেষ, স্থান কাল পাত্র ভেদে লোকাচারমূলক ধর্ম পালনই বড় নাকি মানুষের মধ্যে মনুষত্ব আছে কি নেই - সেটা বড়?
Ibnenazim ইবনে নাজিম১০ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২৩:৪০
ওয়াহহাবী বা সালাফিগণ প্রধানতঃ ৬টি বিষয়ে জমহূরে উম্মতের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন।
১।তাকলীদ প্রসঙ্গ।
২।তাসাওউফ প্রসঙ্গ।
৩।দু'আর মধ্যে ওসীলা প্রসঙ্গ।
৪।তাবীজ-কবজ প্রসঙ্গ।
৫।বুযুর্গানে দ্বীন ও অলী-আওলীয়াদের স্মৃতি বিজড়িত স্থান থেকে বরকত লাভ প্রসঙ্গ।
৬।রওযায়ে আতহার যিয়ারতে যাওয়ার নিয়ত প্রসঙ্গ।

উপরের লেখাটি "ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ "( লেখক-মাওলানা মাহাম্মাদ হেমায়ত উদ্দীন ) নামক বই হতে নেয়া হয়েছে। অনেক লেখা না হলে সবটুকুই তুলে দিতাম। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত জানার জন্য উক্ত বইয়ের ৪৩১ পৃষ্ঠা থেকে দেখতে পারেন। কোন লিঙ্ক জানা নেই, তাই দুঃখিত।
এটি একটি নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ।